প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট। ইরানের বিপক্ষে যুদ্ধে ব্যাপকহারে এটি ব্যবহার করায় সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে, যা ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী বা প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের প্রায় অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের টমাহক ক্রুজ মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রতিবেদনের সহলেখক ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তার মতে, মজুদ পুনরুদ্ধারে এক থেকে চার বছর সময় লাগবে এবং আগের সক্ষমতায় ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
যদিও স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সিএসআইএস সতর্ক করেছে যে, চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য বর্তমান মজুদ যথেষ্ট নাও হতে পারে।
এ বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পার্নেল বলেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রয়েছে। তবে একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে, যা অস্ত্র মজুদ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুদ্ধ শুরুর আগেই জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বিশেষ করে যখন একই সময়ে ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অ্যারিজোনার সিনেটর মার্কে কেলি বলেন, ইরানের বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা একটি ‘গণিতের সমস্যায়’ পরিণত হচ্ছে—যেখানে সরবরাহ, উৎপাদন ও ব্যবহারের ভারসাম্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন উৎপাদন চুক্তি সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের সরবরাহ সীমিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।