প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩১ পিএম
দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি এফ-১৫কে যুদ্ধবিমান। ছবি: বিবিসি
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০২১ সালে দুটি যুদ্ধবিমানের মধ্যে মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের কারণ হিসেবে পাইলটদের ছবি ও ভিডিও তোলার বিষয়টি সামনে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি তদন্তকারী সংস্থা বোর্ড অফ অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশনের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে বুধবার এ খবর প্রকাশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দেগু শহরে একটি নিয়মিত উড্ডয়ন মিশনের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কোনো পাইলট আহত না হলেও সংঘর্ষের ফলে দুটি এফ-১৫কে যুদ্ধবিমানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিমান দুটি মেরামতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে প্রায় ৮৮ কোটি উন (প্রায় ৬ লাখ ডলার)।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, উইংম্যান পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ উড্ডয়ন স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। সে সময় পাইলটদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মিশনের ছবি তোলা একটি ‘সাধারণ চর্চা’ ছিল। উড্ডয়নের আগের ব্রিফিংয়েও ওই পাইলট তার ছবি তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
মিশন শেষে ফেরার পথে উইংম্যান পাইলট তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে লিড এয়ারক্রাফটের (প্রধান বিমান) পাইলট তার সহকর্মীকে উইংম্যানের একটি ভিডিও করতে বলেন। ক্যামেরায় ভালো ছবি পাওয়ার আশায় উইংম্যান পাইলট তখন হঠাৎ করেই তার বিমানটি উপরে তুলে উল্টে ফেলেন। এই বিপজ্জনক কৌশলের কারণে বিমান দুটি একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সংঘর্ষ এড়াতে লিড এয়ারক্রাফটটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুটি বিমানের ডানা ও লেজের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাইলটরা বিমান দুটি নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এই ঘটনার জেরে ওই উইংম্যান পাইলটকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি বর্তমানে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসে কর্মরত আছেন। বিমানবাহিনী প্রথমে তার কাছ থেকে মেরামতের পুরো টাকা দাবি করলেও, পরবর্তীতে অডিট বোর্ড তাকে মেরামতের মোট খরচের ১০ শতাংশ বা ৮ কোটি ৮০ লাখ উন জরিমানার নির্দেশ দেয়।
অডিট বোর্ড রায়ে বলেছে, পাইলটদের ব্যক্তিগত মোবাইল ও ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে সঠিক নীতিমালা না থাকায় বিমানবাহিনীরও কিছু দায় রয়েছে। এছাড়া ওই পাইলটের আগের ভালো রেকর্ড এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা বিবেচনা করে জরিমানার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় অন্য পাইলটদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।