প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২০ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৩৩ এএম
পাকিস্তানে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
গত ২৬ মার্চ, চার সন্তানের জনক ইফতিখার মাসিহকে অপহরণের অভিযোগে আটক করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে। নিহতের ভাই রিয়াসাত মাসিহ জানান, “তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল, কিন্তু পুলিশ তা অস্বীকার করে আত্মহত্যার কথা বলছে।”
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের কোনো বাদী ছিল না এবং ঘটনাটি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হতে পারে। এখনো পর্যন্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পরিবারকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ইফতিখার মাসিহ দীর্ঘদিন লাহোরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মালী হিসেবে কাজ করতেন। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা দেয়।
এদিকে, খ্রিস্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনায়। ইস্টার উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রায় ট্রাক হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হন। এছাড়া, এক খ্রিস্টান কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসরত হাজারো খ্রিস্টান পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। সরকারি জমি খালি করার নির্দেশনার পর থেকেই এসব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন আনোয়ার মাসিহ বলেন, “আমরা কোথায় যাব? আমাদের ছোট ছোট সন্তান আছে। এই পরিস্থিতিতে তারা রাতে ঘুমাতে পারছে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।