প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩২ এএম
স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা চিত্রে ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন। ছবি: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করা হলেও, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এখনও অক্ষত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত এই পর্বতের গভীরে অবস্থিত স্থাপনাটি এতটাই সুরক্ষিত যে, তা শক্তিশালী বাংকার বাস্টার বোমার আঘাত থেকেও রক্ষা পেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভেতরের স্থাপনাটি এখনও কার্যত অক্ষত থাকতে পারে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ইরান এই নতুন প্রকল্পের কাজ আরও জোরদার করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক ভাষণে ইঙ্গিত দেন, ইরান নতুন স্থানে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই স্থাপনাটি গ্রানাইট পাথরের গভীরে অবস্থিত এবং এটি ইরানের পরিচিত ফোর্দো কেন্দ্রের চেয়েও অনেক গভীরে নির্মিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত শক্তিশালী বাংকার বাস্টার বোমাও এর অভ্যন্তরে পৌঁছতে না-ও পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জিনসার এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন প্রকল্পটি আরও বড়, গভীর ও সুরক্ষিত। তাদের মতে, এটি ভবিষ্যতে সামরিক মানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। ইরান অবশ্য দাবি করেছে, স্থাপনাটি মূলত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক ইনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-কে সেখানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, সামরিক অভিযান চালিয়ে এই স্থাপনা ধ্বংস করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এটি ইরানের অভ্যন্তরে গভীরভাবে অবস্থিত এবং সেখানে স্থল অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে কূটনীতিতে আস্থা রাখা বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ, যেখানে এই ধরনের স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, ইরান ইতোমধ্যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এই স্থাপনায় স্থানান্তর করে থাকতে পারে। আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের উল্লেখযোগ্য অংশের ইউরেনিয়াম এখনও ইসফাহান কেন্দ্রে রয়েছে, তবে বাকি অংশ কোথায় আছে তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উপাদান’ হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। যদিও তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন প্রকল্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এটি একদিকে সামরিক পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।