প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪১ এএম
ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর স্যাটেলাইটে ধারণ করা দৃশ্য। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে রাজি হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে তথ্য দিয়েছিলেন ইরান তা অস্বীকার করেছে। গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ট্রাম্প এ তথ্য দেন। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়ার।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর তাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানোর কোনো পরিক্ল্পনাও নেই।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে কথা বলার সময় ইসমাইল বাঘাই জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক বক্তব্য ৮ এপ্রিল ঘোষিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যেই ছিল। এটি নতুন কোনো কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা নয়।
গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছিলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থান স্পষ্ট করে বাঘাই বলেন, শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে উল্লিখিত নিরাপদ চলাচলের শর্তগুলো প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাইনি। ৮ এপ্রিল যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এটি সেই চুক্তিই।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির শুরু থেকেই তারা লেবাননে এর শর্তাবলি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের দাবি, ৮ এপ্রিলের চুক্তিতে এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও ওয়াশিংটন ও জেরুজালেম ইরানের এই ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রাখলে ইরান ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাঘাই। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সংঘাত নিরসন ও ইরানের স্বার্থ রক্ষায় অব্যাহত রয়েছে।
বাঘাই উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কোনো ভার্চুয়াল জগতে নেওয়া হয় না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ইরানের। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির পর ইরান ঘোষণা করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে বেসামরিক জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
ইরানের ভূখণ্ডে যৌথ হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। এরপর গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা অবরোধ আরোপ করে, যা ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ইরানের কাছে ৯০০ পাউন্ডেরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সবচেয়ে জটিল ইস্যুগুলোর একটি হলো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।