এএনআই নিউজ
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৮ পিএম
প্রতীকী ছবি/আনাদোলু
ইরানে নিরাপত্তা অভিযানে অন্তত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি, অস্ত্র চোরাচালান এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই বুধবারর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করেছে। মোসাদের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি অস্ত্র পাচারকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদেরও আটক করা হয়েছে। ইরানের ছয়টি প্রদেশে একযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
এমন এক সময়ে এই গ্রেপ্তারের খবর এল, যখন মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া প্রকাশ্যে ইরানে তাদের গোপন তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন।
বার্নিয়া সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানান, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় মোসাদ সরাসরি তেহরানের হৃদপিণ্ডে সক্রিয় ছিল।
‘টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার হলোকাস্ট মেমোরিয়াল ডে-এর এক অনুষ্ঠানে বার্নিয়া বলেন, মোসাদ কেবল গোয়েন্দা তথ্যই সংগ্রহ করেনি, বরং সরাসরি সামরিক অভিযানেও সহায়তা করেছে। তিনি দাবি করেন, “আমরা বিমান বাহিনীকে নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করেছি এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে সাহায্য করেছি”।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রধান আরও স্পষ্ট করেছেন যে, সাম্প্রতিক লড়াই থেমে গেলেও তাদের অভিযান শেষ হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের মিশন এখনও অসম্পূর্ণ। আমরা ভাবিনি যে লড়াই শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তেহরানে হামলার পরবর্তী সময়েও লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা নিবিড় পরিকল্পনা করেছি”।
মোসাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে বার্নিয়া সোজাসুজি জানান যে, ইরানের বর্তমান ‘উগ্রপন্থি শাসন’ ক্ষমতা থেকে অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত মোসাদের কাজ শেষ হবে না। তার মতে, ইরানের এই প্রশাসন পরিবর্তনই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “একটি অস্তিত্বগত হুমকির সামনে আমরা কেবল দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকব না”।