আল জাজিরা
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৫ এএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫০ এএম
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ছবি: রয়টার্স
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এ সপ্তাহে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী শরিফ তাকে এই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সহ-মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং ভবিষ্যৎ সংলাপ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাবেন।
এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রয়েছে।
জারদারি প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
নতুন করে শান্তি আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে গোপন আলাপ-আলোচনার অসমর্থিত খবর সোমবার প্রকাশিত হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাতিসংঘের মন্তব্যে শরিফের এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের মধ্যে ২১ ঘণ্টার মুখোমুখি আলোচনা রবিবার কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন এই আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।
পত্রিকাটি জানায়, ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন আলোচনা ইউরোপে হবে, তবে পরে তিনি ফোন করে জানান যে এটি ‘সম্ভবত’ আবার ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, তিনি ‘চমৎকার কাজ করছেন’।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস মঙ্গলবার জানায়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর এক কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারও আলোচনায় সম্মত হয়েছে, তবে স্থান, সময় এবং প্রতিনিধিদলের গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইসলামাবাদ ও জেনেভাকে সম্ভাব্য আয়োজক শহর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যিনি মঙ্গলবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, বলেন যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ‘অনেক বেশি’।
আলোচনায় ফিরে যাওয়া হলে তা প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা হবে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যই ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করায় বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে গেছে।
গুতেরেস বলেন, “এমন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান প্রথম বৈঠকেই হয়ে যাবে—এটা আশা করা অবাস্তব। তাই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং সেই সঙ্গে যুদ্ধবিরতিও বজায় রাখতে হবে।”
ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার কামাল হায়দার বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই স্বীকার করছে যে তাদের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে।”
এ দিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ফোনালাপে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।