নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৮ এএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০১:২১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম। ছবি: বিবিসি
আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা হতে পারে বলে 'দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট'-কে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, আলোচনা "চলছে, তবে কিছুটা ধীরগতিতে"। সে সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সাত সপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব ইউরোপের কোনো দেশে হতে পারে। তবে এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর ট্রাম্প আবার ফোন করে নতুন আপডেট দেন।
ইসলামাবাদের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "আপনাদের সেখানেই থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বড় কিছু ঘটতে পারে। আমরা এখন সেখানেই যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। এর কারণ কী জানেন? কারণ ওখানকার ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন"।
ট্রাম্প এখানে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের কথা বুঝিয়েছেন। গত বছর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধ চলাকালীন আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সেই যুদ্ধ শেষ হয়েছিল।
মুনিরের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, "তিনি অসাধারণ একজন মানুষ, তাই আমাদের সেখানে (ইসলামাবাদ) ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এমন কোনো দেশে কেন যাব যাদের এই বিষয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই? তিনি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ থামিয়ে ৩ কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন"।
তবে এই সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা ট্রাম্প জানাননি। তবে তিনি নিজে এতে অংশ নেবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, গত সপ্তাহের ব্যর্থ আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "আমি সবসময় বলে আসছি যে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। তাই এই ২০ বছরের সময়সীমা আমার পছন্দ নয়"।
এই চুক্তির ফলে ইরান নমনীয় হতে পারে—এমন যুক্তির জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমি চাই না ইরান এই চুক্তিকে তাদের 'জয়' হিসেবে দেখার সুযোগ পাক"।
আলোচনার আয়োজক ও মধ্যস্থতাকারী অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ সাঈদ দাবি করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো জটিল বিষয়ে তেহরান কিছুটা 'নমনীয়তা' দেখিয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানকে এমন কিছু অর্জন করতে হবে যা তাদের জনগণের কাছে 'আত্মসমর্পণ' বলে মনে না হয়।
অন্যদিকে, তেহরানের প্রতিনিধি দলের সদস্য মোহাম্মদ মারান্দি বেশ কঠোর সুরেই কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "অবরোধ দিয়ে ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না"।