আল জাজিরা
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩১ পিএম
চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইদং। ছবি: আল জাজিরা
চীনের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডংকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
চীনের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সংস্থা ‘স্টেট কাউন্সিল’-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুন ওয়েইডংকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তবে তাকে কেন বা ঠিক কবে অপসারিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১৩ মার্চ ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকই ছিল সুনের শেষ প্রকাশ্য কর্মসূচি। এর দুই দিন আগে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন।
চীনে এ ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ অনেক সময় কঠোর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়, যার পরে সাধারণত বড় কোনো তদন্তের খবর সামনে আসে। তবে এমনও হতে পারে যে, তাকে অন্য কোনো দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে কিংবা তিনি অবসরে গিয়েছেন।
সুন ওয়েইডংয়ের পাশাপাশি জাতীয় রেলওয়ে প্রশাসনের উপ-পরিচালক আন লুশেংকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চীনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই রদবদল নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়, কারণ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনামলে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে দুর্নীতিবিরোধী বড় অভিযান চলছে। ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিং ‘টাইগার অ্যান্ড ফ্লাইস’ (উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা) নীতি গ্রহণ করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর চীনে ১০ লাখেরও বেশি দুর্নীতির মামলা তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই তালিকায় ৬৯ জন প্রাদেশিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ৪ হাজারেরও বেশি ব্যুরো-পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন।