বিবিসি
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৯ পিএম
চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া নেকড়ে। ছবি: বিবিসি
চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি নেকড়েকে খুঁজে বের করতে থার্মাল ইমেজিং (তাপ-নির্ণায়ক) ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যঞ্চলীয় শহর দেজনের ‘দেজন ও-ওয়ার্ল্ড’ নামক একটি চিড়িয়াখানা ও থিম পার্ক থেকে ‘নুকগু’ নামের এই নেকড়েটি পালিয়ে যায়। দুই বছর বয়সি পুরুষ নেকড়েটি গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবার খাঁচার বেড়ার নিচ দিয়ে গর্ত খুঁড়ে পালিয়ে যায় নেকড়েটি। দেজন ফায়ার হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, এটিকে উদ্ধারে অগ্নিনির্বাপক কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্যসহ ৩০০-এরও বেশি জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি নিয়ে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি আশা করি কোনো মানুষের যেন ক্ষতি না হয় এবং নুকগুও যেন নিরাপদে ফিরে আসে, সেই প্রার্থনা করি”।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানার পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাবধানে চলাফেরা করার এবং নেকড়েটির কোনো খোঁজ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার থার্মাল ইমেজিং ফুটেজে বুধবার নেকড়েটিকে চিড়িয়াখানার কাছের একটি পাহাড়ি বনে চলাচল করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ড্রোন মোতায়েন করা হলেও ভারী বৃষ্টির কারণে তল্লাশি কিছুটা ব্যাহত হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নেকড়েটি খাঁচার নিচের মাটি খুঁড়ে গর্ত তৈরি করে বেরিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে জন্ম নেওয়া ‘নুকগু’ ছিল মূলত কোরিয়ান নেকড়ে পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এই প্রজাতিটি বর্তমানে বন্য পরিবেশে বিলুপ্তপ্রায়।
নেকড়েটি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ‘নুকগু’ নামের একটি মিম কয়েনও চালু হয়েছে। এই ঘটনাটি ২০২৩ সালে সিউলের একটি চিড়িয়াখানা থেকে ‘সেরো’ নামক একটি জেব্রার পালিয়ে যাওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।