প্রশান্ত মহাসাগরে শুক্রবার বিকাল ৫:০৭ মিনিটে আর্টেমিস ২ ক্রু ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। ছবি: রয়টার্স
নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস–২ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের চারপাশে ঘুরে চারজন নভোচারী নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন।
নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে সফলভাবে স্প্ল্যাশডাউন করে। অবতরণের পরপরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
মিশনে অংশ নেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তাদের এই যাত্রা ছিল প্রায় ১০ দিনের।
চাঁদ থেকে ফেরার পথে ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবশের সময় ১৩ মিনিটের এক ভয়াবহ ধাপ অতিক্রম করে, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং কিছু সময়ের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে প্যারাশুট ব্যবস্থা সক্রিয় হলে অবতরণ ধীর হয় এবং মহাকাশযানটি নিরাপদে সমুদ্রে নামে। উদ্ধারকারী দল জানায়, মহাকাশচারীরা সামান্য যোগাযোগ সমস্যার বাইরে ভালো অবস্থায় আছেন।
মিশন কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমাদের হৃদয়ে ছিল একটি আশা- যেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও পৃথিবী থেমে যায় এবং মনে হয় যে এটি মহাবিশ্বের এক বিশেষ সুন্দর গ্রহ।”
তিনি বলেন, “আমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের লালন করা উচিত।”
লকহেড মার্টিন নির্মিত এই মহাকাশযান ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নাসা এখন এর তাপরক্ষাকারী ঢাল, ন্যাভিগেশন ও জীবন-সহায়ক সিস্টেমের তথ্য বিশ্লেষণ করবে।
মহাকাশচারীরা ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। চাঁদের চারপাশে ঘুরে তারা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালান এবং মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এক নতুন দৃশ্য উপভোগ করেন।
নাসা কর্মকর্তারা এই মিশনকে ভবিষ্যতের আর্টেমিস কর্মসূচির জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী ধাপে চাঁদের পৃষ্ঠে মানব অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা