আলজাজিরা
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১১ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
ইরানের ওপর মার্কিন যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে পতাকা হাতে সমবেত জনতা, ৮ এপ্রিল ২০২৬। ছবি: রয়টার্স/ওয়ানা ভায়া/মজিদ আসগারিফুর
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে উভয় দেশ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বনেতারা। আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়।
ইসরায়েল
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, তিনি ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে ইরান আর বিশ্বের জন্য পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি হয়ে থাকবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে।
ইরাক
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকেই এই চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ইরাককেও চরম সহিংসতা মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।
মিশর
মিশরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কূটনীতি ও গঠনমূলক সংলাপের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সাথে মিশরও কাজ করে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বেসামরিক জীবন রক্ষা ও মানবিক কষ্ট লাঘবে এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য তিনি পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জাপান ও ইন্দোনেশিয়া
জাপান একে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে চূড়ান্ত চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া উভয় পক্ষকে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বলেছে। পাশাপাশি লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেছে দেশটি।
মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, কোনো পক্ষ যেন এমন কোনো উসকানিমূলক কাজ না করে যা বিশ্ব অর্থনীতি বা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তারা এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সও এই চুক্তিকে ইতিবাচক বললেও সামনের দিনগুলোতে আরও কঠিন কাজ বাকি আছে বলে মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনা এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।