ইরান যুদ্ধ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫১ পিএম
ইরানের তেহরানে ৭ এপ্রিল একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপে কাজ করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। এই হামলায় ভবনটির পার্শ্ববর্তী রফি-নিয়া সিনাগগটিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ছবি: আলজাজিরা/ গেটি ইমেজেস/মজিদ সাঈদী
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মুখে ইরানকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মঙ্গলবার তিনি ইরান ও দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে এই চূড়ান্ত হুমকি দেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “আজ রাতে পুরো একটি সভ্যতা বিলীন হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত তা-ই হতে যাচ্ছে”।
ইরানে তথাকথিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এখন যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ এবং সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, যেখানে ভিন্নতর, আরও বুদ্ধিমান এবং কম উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষেরা ক্ষমতায় আসছে, তাই হয়তো বৈপ্লবিক ও চমৎকার কিছু ঘটতে পারে। কে জানে”?
ইরানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, “বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে আজ রাতেই আমরা সত্যটা জানতে পারব। অবশেষে ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ইরানের মহান জনগণের ওপর সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ বর্ষিত হোক!” যোগ করেন ট্রাম্প।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিলেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়, যেখানে ইরানের প্রধান শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রণালীটি ইরানের কঠোর অবরোধের মুখে কার্যত অচল থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের নজর এখন এই রণক্ষেত্রের দিকে।