প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩১ এএম
ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার।
ইরানের সব ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছেÑ নিজের একাধিক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন কথা তুলে ধরেছেন। ইরানের আর আক্রমণের শক্তি নেইÑ এমনটাও বলেছেন তিনি। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার ও সাইলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাঙ্কারে চাপা পড়া মিসাইল লঞ্চার মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে দ্রুত পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন দাবি করেছে, পাঁচ সপ্তাহে ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই মূল্যায়নের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
তাদের মতে, ইরানের মিসাইল সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও অনেক দূরে। ইরান এখনও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুরুতে ইরানের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করলেও পরে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। হেগসেথ বলেন, ইরান এখনও কিছু মিসাইল ছুড়তে সক্ষম, তবে সেগুলো প্রতিরোধের দাবি করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে এবং তাদের নৌ সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, হামলা কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস, যেখানে ইরান তাদের লঞ্চারগুলো পাহাড়ের গুহা ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে সরিয়ে রেখেছে, সুযোগমতো ব্যবহারের জন্য।
বর্তমান ও সাবেক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখনও প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৫০ থেকে ১০০টি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন নিক্ষেপ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছোট দফায় হামলা চালিয়ে তারা সক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে।
এদিকে, ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভ্রান্তিমূলক কৌশল। বিপুলসংখ্যক নকল বা ছদ্মবেশী মিসাইল লঞ্চার ব্যবহারের কারণে কোনটি ধ্বংস হয়েছে আর কোনটি অক্ষত রয়েছেÑ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে কতসংখ্যক লঞ্চার ছিল, তার নির্ভুল তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্কার ও গুহায় কত লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে, তা নিরূপণ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে, ইরানের অন্তত অর্ধেক মিসাইল লঞ্চার এখনও অক্ষত রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুলডোজার ব্যবহার করে চাপা পড়া লঞ্চার দ্রুত উদ্ধার করে পুনরায় মোতায়েন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও নিজেদের অবস্থান অটুট রাখার কৌশল নিচ্ছে।