প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৪ পিএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫ এএম
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলাকে “অবৈধ” এবং “সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই রোগী ছিলেন।
গত ১৬ মার্চ কাবুলের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওমিদ ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে এ হামলা চালানো হয়। প্রায় ২,০০০ শয্যার এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি ২০১৬ সাল থেকে একটি সাবেক ন্যাটো ঘাঁটি—ক্যাম্প ফিনিক্সে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলায় অন্তত তিনটি ভবন ধ্বংস হয়, যার মধ্যে ছিল ডাইনিং হল, রোগীদের আবাসিক ভবন এবং একটি গার্ড রুম।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, “নির্ভুল বিমান হামলার” মাধ্যমে “কারিগরি সহায়তা অবকাঠামো ও গোলাবারুদের গুদাম” লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে তিনি চিকিৎসা কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেননি।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্যাট্রিসিয়া গসম্যান বলেন, “উপলব্ধ প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, একটি সুপরিচিত চিকিৎসা কেন্দ্রে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। কেন এই হামলা চালানো হলো এবং কারা দায়ী—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।”
হামলার সময় কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি রোগী ছিলেন বলে জানা গেছে। রমজানের ইফতারের সময় অনেক রোগী ডাইনিং হলে অবস্থান করছিলেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, কিশোরদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত একটি ব্লক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আফগানিস্তানের দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ডিএনএ পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে নিহতদের অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের খুঁজে পেতে হাসপাতাল ও মর্গে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। প্রধান ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অন্যান্য ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনায় কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ফলে এই হামলাকে “বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্বিচার আক্রমণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো বিশেষ সুরক্ষার আওতায় থাকে এবং এগুলোতে হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ।
সংস্থাটি আরও বলেছে, পাকিস্তানের উচিত দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও বিমান হামলার ঘটনা বেড়েছে।
এইচআরডব্লিউ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সুষ্ঠু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।