প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৮ পিএম
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজে একটি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ধ্বংসস্তুপের মাঝে নির্বাক দাঁড়িয়ে এক নারী। ছবি: এএফপি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারেÑ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। একটি খোলা চিঠিতে শতাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ এ উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, এসব কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে।
এই খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়েছে এমন একসময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি পরিশোধন স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন।
গত বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে না নেয়, তাহলে যুদ্ধ আরও তীব্র করা হবে। সেক্ষেত্রে জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক। এতে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত রয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও রয়েছেন।
চিঠিতে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘নিছক আনন্দের জন্য’ ইরানে হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ‘ফালতু নিয়মগুলো’ অনুসরণ করে না।
খোলা চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে জাস্ট সিকিউরিটি সাময়িকীর ওয়েবসাইটে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিনেই একটি স্কুলে হামলার ঘটনাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং মার্চে তা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হতে পারে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছে। এদিকে ট্রাম্প আবারও কঠোর হামলার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে হামলা চালাব। আমরা তাদের আবার প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।’
যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ মুসলিম অধিকার সংস্থা ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী ও অবমাননাকর বলে সতর্ক করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানে। পরবর্তী সময়ে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কতটা বৈধ; তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।