প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২ এএম
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার দূত এলিয়ানর স্যান্ডার্স বলেন, মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই পরিষদ আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি, নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়া এবং নারীদের উপর অব্যাহত দমন বিশেষত আফগানিস্তানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “তালেবানের নতুন শাস্তিমূলক নির্দেশিকা ধর্মভিত্তিক বৈষম্যকে বেড়ে দেয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করে এবং মহিলাদের ও শিশুদের প্রতি সহিংসতাকে বৈধতা দেয়। এই নির্দেশিকা এবং অন্যান্য দমনমূলক পদক্ষেপ বাতিল করা প্রয়োজন, না হলে সকল আফগান নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
সুদানের পরিস্থিতিও উল্লেখ করে যুক্তরাজ্য মানবাধিকার দূত বলেন, “এল ফাশেরের ঘটনায় ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনের ভয়াবহ তথ্য হৃদয়বিদারক। এখানে নৃশংস নিধন, গণধর্ষণ, সম্প্রদায়ের ওপর অনাহার চাপানো এবং মানবিক সাহায্য বন্ধ করার ঘটনাগুলো ঘটেছে। এ ধরনের অপরাধ অবহেলা করা যায় না। আমরা ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে, মানবিক করিডোর খুলতে এবং নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
হংকং ও তিব্বত-উইঘুর অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও যুক্তরাজ্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দূত এলিয়ানর স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা হংকংয়ের ওপর চীনা সরকার কর্তৃক চাপানো জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানাই এবং এই আইনের অধীনে অভিযুক্ত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই, যার মধ্যে জিমি লাইও রয়েছেন। এছাড়া তিব্বত ও শিনজিয়াংয়ে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সীমাবদ্ধতাও আমাদের গভীরভাবে উদ্বেগের।”
উল্লেখ্য, মানবাধিকার পরিষদ ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং এই মঞ্চে যুক্তরাজ্যের বক্তব্যে বিশ্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।