প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৪ এএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মঙ্গলবার ডাকযোগে ভোট-সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ছবি: এএফপি
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পশ্চিমা জোটে বিভাজনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলগামী সামরিক রসদ বহনকারী উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি ফ্রান্স। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ফ্রান্সের আচরণকে ‘অসহযোগিতামূলক’ বলে আখ্যা দেন।
তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর এই অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছে, চলমান সংঘাত ঘিরে তাদের সিদ্ধান্ত পূর্বঘোষিত নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে ব্যবহারের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের অনুরোধই প্রত্যাখ্যান করেছে প্যারিস।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ফ্রান্স সক্রিয়ভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্স থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ইতালির ঘাঁটি ব্যবহারে না
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে ইতালির ক্ষেত্রেও। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজকে সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেতো জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে বিদ্যমান চুক্তির বাইরে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।
স্পেনের কড়া অবস্থান
স্পেন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়িত মার্কিন উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও জানিয়েছেন, শুধু ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
যুক্তরাজ্য নিয়েও ক্ষোভ
মিত্রদেশ যুক্তরাজ্যের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানবিরোধী পদক্ষেপে অংশ নিতে অনীহা দেখাচ্ছে লন্ডন।
হরমুজ প্রণালী কেন্দ্র করে উত্তেজনার প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যেসব দেশ সরাসরি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে না, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি কিনে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।
ন্যাটো জোটে চাপ
যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোর প্রধান ইউরোপীয় সদস্যরা এই ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় জোটের অভ্যন্তরে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জার্মানি প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও পরে দেশটির প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়।