প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৭ পিএম
নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ফুটেজ নিয়ে করা ‘দ্য বিবি ফাইলস’ নামের তথ্যচিত্রটি সম্প্রতি মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টিভি সঞ্চালক টাকার কার্লসনের মালিকানাধীন টাকার কার্লসন নেটওয়ার্ক-টিসিএনে প্রকাশ করা হয়েছে। শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, ‘নেতানিয়াহু: এটি গোপনীয় এবং ফাঁস করা যাবে না’। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ গত এক মাসে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকেই পাল্টে দেয়নি, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর ভিত্তিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত
কয়েক দশকের মধ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি কখনোই এমন বহুমুখী চাপের সম্মুখীন হয়নি, যেখানে
তাকে একইসঙ্গে রণক্ষেত্রের উন্মাদনা, অভ্যন্তরীণ শাসনতান্ত্রিক বিদ্রোহ ও সামরিক সক্ষমতার
সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
দেশটির
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও সম্ভবত
শেষ অগ্নিপরীক্ষা এখন এই যুদ্ধের ময়দানেই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, হারেৎজ ও রয়টার্সের সাম্প্রতিক
বিশ্লেষণগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি দেশরক্ষা
যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি গভীরতর জাতীয় অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
গত
২৮ মার্চ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
শিরোনাম ব্যবহার করেছে—‘নেতানিয়াহুর অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ: পারমাণবিক
ছায়া আর সামরিক ক্লান্তির চাপে বিভাজিত ইসরায়েল’। এই শিরোনামের অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ
করলে দেখা যায়, পত্রিকাটি বর্তমান সংঘাতকে কেবল একটি সামরিক অভিযান হিসেবে দেখছে না।
তাদের
মতে, এই যুদ্ধ এখন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার একটি সুকৌশলী
ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুর্নীতির মামলা ও গত বছরের বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার
নিয়ে সৃষ্ট যে প্রচণ্ড গণবিক্ষোভ ইসরায়েলের রাজপথকে উত্তাল করে রেখেছিল, যুদ্ধের
জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে সেগুলোকে সাময়িকভাবে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এই
রাজনৈতিক কৌশলের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে।
গত
২৯ মার্চ ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদপত্র হারেৎজ তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করেছে,
মোসাদ ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের
এক নজিরবিহীন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তেহরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ বা রেজিমে চেঞ্জের যে উচ্চাভিলাষী
লক্ষ্য নেতানিয়াহু ও তার কট্টরপন্থী জোটের শরিকরা নির্ধারণ করেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো
তাকে ‘অবাস্তব’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছে।
মোসাদ
প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ও আইডিএফ প্রধান আইয়াল জামিরের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের
জন্য যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার
জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
রণক্ষেত্রে
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে গত ৩০ মার্চ রয়টার্স ও এপি এক উদ্বেগজনক
চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ছয় মাস কয়েক লাখ রিজার্ভ সৈন্যকে
ফ্রন্টলাইনে আটকে রাখায় সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘কমব্যাট ফ্যাটিগ’ বা যুদ্ধ-ক্লান্তি চরমে
পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের
সামরিক ইতিহাসে রিজার্ভ সৈন্যরা সবসময়ই একটি বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে, কিন্তু
এ বছরের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
সৈন্যরা
তাদের পরিবার, কর্মস্থল ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের মনোবল
ও পেশাদারিত্বে টান পড়েছে। বিশেষ করে উচ্চ-প্রযুক্তির খাতের কর্মীরা যারা এখন ফ্রন্টলাইনে
অস্ত্র হাতে লড়ছেন, তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছে, তা পরোক্ষভাবে
সৈন্যদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর
পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিক ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মঙ্গলবার
বিবিসি তাদের এক সামরিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ইরানের অবিরাম ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে
ইসরায়েলের আয়রন ডোম ও ডেভিডস স্লিংয়ের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে
এসেছে।
আইডিএফ
প্রধানের এক গোপন বার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, মার্কিন জরুরি লজিস্টিক সহায়তা
ছাড়া এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনির্দিষ্টকাল ধরে টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ,
সামরিক শক্তির যে অপরাজেয় ভাবমূর্তি ইসরায়েল এতদিন বজায় রেখেছিল, তা এখন গভীর সংকটের
মুখে।
ইসরায়েলের
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বন্দী মুক্তি’ ইস্যু এবং সাধারণ
মানুষের তীব্র ক্ষোভ।
৩০
মার্চ আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেল আবিব ও জেরুজালেমের রাস্তায় প্রায়
পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে। তাদের স্লোগান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—‘বন্দীদের জীবন আগে, যুদ্ধ পরে’।
বিক্ষোভকারীদের
অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোটের শরিক ইতামার বেন-গ্যভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ
নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এবং কট্টরপন্থী ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখতে বন্দীদের জীবনকে
বাজি রাখছেন।
এই
মানবিক ও সামাজিক বিভাজন ইসরায়েলি সমাজকে এমনভাবে খণ্ডিত করেছে, যা ১৯৪৮ সালের পর
আর কখনো দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ মনে করছে, সরকার যুদ্ধের জয় ঘোষণার নেশায় তাদের আপনজনদের
জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করছে। এই জনরোষ কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সরাসরি সামরিক
বাহিনীর মধ্যেও প্রভাব ফেলছে, কারণ অনেক সৈন্যের আত্মীয়-স্বজনরা এই বন্দী তালিকায় রয়েছেন।
অর্থনৈতিক
দিক থেকেও ইসরায়েল আজ এক ভয়াবহ ধসের মুখোমুখি। দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে
ইসরায়েলের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন’ বলে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলের
অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত হাই-টেক বা প্রযুক্তি খাতের অধিকাংশ কর্মী এখন
রণক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকায় উৎপাদনশীলতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
চলতি
বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী
হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত সমাজ নেতানিয়াহু
সরকারের বিরুদ্ধে আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের
পেছনে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা মেটাতে গিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো
বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের অবকাঠামোকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
গার্ডিয়ানের
মতে, যদি দ্রুত যুদ্ধবিরতি না আসে, তবে ইসরায়েল এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে
যেখান থেকে উঠে আসতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক
অঙ্গনেও ইসরায়েল ক্রমেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস থেকে
মৌখিক সমর্থন এবং কিছু সামরিক সহায়তা মিলছে, কিন্তু পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা
মধ্যপ্রাচ্যে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েলের ওপর চাপ বৃদ্ধি
করছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ইউরোপীয়
মিত্ররা ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা শুরু করেছে এবং মানবিক
বিপর্যয়ের প্রশ্নে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে।
এই
কূটনৈতিক একাকিত্ব ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যেখানে বিরোধী
নেতা ইয়ার লাপিদ ও বেনি গান্তজ এখন একজোট হয়ে আগাম নির্বাচনের দাবি তুলছেন। তারা মনে
করছেন, বর্তমান সরকারের হাতে দেশ নিরাপদ নয় এবং যুদ্ধের পরিচালনার জন্য যে নৈতিক ও
কৌশলগত স্বচ্ছতা প্রয়োজন, নেতানিয়াহু সরকারের তা নেই।
এই
সময় ইসরায়েলের জন্য কেবল একটি সামরিক চ্যালেঞ্জ নয়, এটি দেশটির অস্তিত্বের স্বরূপ
নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক লড়াই। একদিকে রণক্ষেত্রের উন্মাদনা ও পারমাণবিক যুদ্ধের ছায়া,
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ধস—এই দ্বিমুখী
সংকটে ইসরায়েল আজ দিশেহারা।
নেতানিয়াহু
একে তার অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ হিসেবে দেখলেও সাধারণ ইসরায়েলিদের কাছে এটি এখন এক অন্তহীন
ট্র্যাজেডি।
যদি
দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান বা কার্যকর যুদ্ধবিরতি না আসে, তবে এই সংঘাত কেবল ইরানের
ক্ষতি করবে না, বরং ইসরায়েলের নিজস্ব গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং কয়েক দশকের তিল তিল করে
গড়ে তোলা সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু করে দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা
বলছেন, ইসরায়েলের প্রকৃত শত্রু হয়তো কেবল সীমান্তের ওপারে নয়, বরং তার নিজের অভ্যন্তরীণ
বিভাজন, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নেতৃত্বের সংকটের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিত ভাষ্য এটাই নির্দেশ করে, ইসরায়েল এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে
দাঁড়িয়ে আছে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই তার ভবিষ্যৎ মানচিত্র ও অস্তিত্বের ধরন নির্ধারণ
করে দেবে।
বর্তমানে
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক ভয়াবহ জনবল সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির
সতর্ক করেছেন যে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সেনাবাহিনী ‘ভেঙে পড়তে’ পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে
নেতানিয়াহু বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর এবং অতি-রক্ষণশীল হারিদি ইহুদিদের
জন্য খসড়া আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে,
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ক্ষমতা গ্রহণের পর অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান
নিয়েছেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মোকাবিলায় প্রায় ১০ লাখ
সদস্যের একটি বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এই
সামরিক রেষারেষির ফলে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে; যার ফলে বিশ্ববাজারে
তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের
দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
এক
পক্ষ যখন সৈন্য স্বল্পতা মেটাতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হিমশিম খাচ্ছে, অন্য
পক্ষ তখন জনবল ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে বিশাল প্রতিরোধের দেওয়াল তৈরি করছে, যা
মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি
‘দ্য বিবি ফাইলস’ নামের তথ্যচিত্রের ফুটজ নিয়েও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রায়
এক হাজার ঘণ্টার গোপন ভিডিও ফুটেজ হাতে পেয়েছেন অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স
গিবনি। তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন অ্যালেক্সিস ব্লুম। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর স্ট্রিম্নিং
প্ল্যাটফর্ম ‘জোল্ট’-এ মুক্তি দেওয়া হয় ১১৩ মিনিটের তথ্যচিত্রটি।
সেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও ঘুষ
গ্রহণের মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে।
সম্প্রতি
তথ্যচিত্রটি মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টিভি সঞ্চালক টাকার কার্লসনের মালিকানাধীন
টাকার কার্লসন নেটওয়ার্ক-টিসিএনে প্রকাশ করা হয়েছে। সে উপলক্ষে গিবনির সাক্ষাৎকার নেন
কার্লসন।
এই
ফাইলগুলোতে মূলত ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নেতানিয়াহু, তার স্ত্রী সারা ও পুত্র
ইয়ারকে পুলিশের করা জিজ্ঞাসাবাদের ফুটেজ রয়েছে, যা এতদিন ইসরায়েলের আদালত জনসমক্ষে
প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল।
বর্তমানে
যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জনবল সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এই ভিডিওগুলো
প্রকাশ পাওয়ায় নেতানিয়াহু চরম নৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছেন।
সমালোচকদের
মতে, এই ফাইলগুলো নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দুর্নীতির চিত্র এমনভাবে সামনে
এনেছে যা তার যুদ্ধকালীন নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দেশের ভেতরে তার পদত্যাগের
দাবিকে আরও জোরাল করে তুলেছে।