প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৬ এএম
ট্রাম্পের তথাকথিত শান্তি বার্তাকে যুদ্ধের আশঙ্কার বার্তা হিসেবেই দেখছে ইরান। গ্রাফিক্স: দ্য ডেইলি স্টার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কথা বলছেন, তখন তা ইতিবাচক সংকেত হিসেবে না দেখে উল্টো যুদ্ধের আশঙ্কা হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলে ‘শান্তির চুক্তির কথা’ প্রায়শই সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তারা ধারণা করছেন, চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত ও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে স্থল অভিযানের মাধ্যমে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধ চলমান থাকাবস্থাতেই ট্রাম্প যখন একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা বলছেন এবং ইরানিদের যুক্তিবাদী বলে বর্ণনা করছেন, তখন তারা ধারণা (ইরানের কর্মকর্তারা) করছেন যে যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে।
তারা এও মনে করেন এটি মূলত আমেরিকান মানসিকতার একটি প্রতিফলন, বিশেষ করে ট্রাম্পের সময়কার। তাই তারা ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের আলোচনার চেয়ে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
তাদের অধিকাংশ মন্তব্যই ইরানের প্রস্তুতি এবং একটি স্থল যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে, কারণ তারা মনে করেন শান্তি চুক্তির বদলে সেটিই ঘটতে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানো মানেই দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।
তার মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং এই যুদ্ধের অজনপ্রিয়তা, যা এর মধ্যেই বেশ লক্ষণীয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের জন্য এটাই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসও এখনও এই স্থল অভিযানের অনুমোদন দেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের কর্মকর্তারা আরও জানায়, সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাদের বিশাল সামরিক বাহিনী এবং বাসিজ স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী দেশ রক্ষায় প্রস্তুত।
এমন সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।