প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:২১ এএম
মধ্য ইসরায়েলের বেইত সেমেসের কাছে ইশতাওল এলাকায় শনিবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির স্থানে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে নিরাপত্তাকর্মীরা। ছবি: এএফপি
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়াল। প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা; এর মধ্য দিয়ে এক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ড চলায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়ায়, হামলা ও উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ায় বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের এক মাস পর ট্রাম্প কঠিন এক পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। তার সামনে এখন দুটো পথÑ হয়তো যেকোনো রকমের একটা চুক্তিতে রাজি হয়ে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা, নয়তো সামরিক শক্তি বাড়িয়ে যুদ্ধকে এমনভাবে টেনে নেওয়া যা তার পুরো প্রেসিডেন্সিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ পালনের কথা জানিয়েছে তুরস্ক। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ফোনে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ‘বিস্তারিত’ ফোনালাপ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দেশটি ২৯ ও ৩০ মার্চ ইসলামাবাদে বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে লিখেছেন, তারা ‘গভীর আলোচনা’ করবেন, যার মধ্যে থাকবে ‘অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা’ সম্পর্কিত আলাপ।
রয়টার্স বলছে, প্রচণ্ড কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের আরও একটি সপ্তাহ ট্রাম্প এমন অবস্থায় শেষ করছেন যেখানে মধ্যপ্রাচ্য সংকট সামলাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান এখনও উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস সরবরাহ আটকে রেখেছে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি এই যুদ্ধ থেকে পিছু হটবেন নাকি আক্রমণ আরও বাড়াবেন? সমালোচকরা একে বলছেন, ‘ইচ্ছাকৃত চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’, যা ইতিহাসের সবচাইতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে এবং এর প্রভাব অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন যে, তিনি কোনো ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ চান না এবং আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান খুঁজছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে যে চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা দিয়েছিলেন, সেটি বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দিচ্ছেন, যদিও ওই কর্মকর্তা মনে করেন এই সময়সীমা এখন বেশ ‘নড়বড়ে’। একই সঙ্গে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি আলোচনা সফল না হয় তবে তিনি বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ চালাবেন।
পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবসহ ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা এটাই প্রমাণ করে, তিনি জরুরি ভিত্তিতে এই যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন। কিন্তু ফলপ্রসূ কোনো আলোচনার বাস্তব সম্ভাবনা এখন আছে কি না, তা এখনও অস্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এখন ভালো কোনো বিকল্প নেই। বড় সমস্যা হলো, আসলে কোন ফলটি সন্তোষজনক হবে তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কমান্ডার-ইন-চিফ যখন মনে করবেন যে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, তখনই এই অভিযান শেষ হবে’ এবং ট্রাম্প তার লক্ষ্যগুলো পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
বিস্তৃত হতে থাকা যুদ্ধ সামলাতে হিমশিম
নিজের তাসের চাল ঠিক রাখতে ট্রাম্প এই অঞ্চলে আরও কয়েক হাজার মার্কিন সৈন্য পাঠাচ্ছেন এবং ইরানকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তারা যদি দাবি না মানে তবে স্থলবাহিনী নামানোসহ আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শক্তি প্রদর্শন হয়তো তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার একটি কৌশল, কিন্তু এতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে; আর ইরানের মাটিতে মার্কিন সৈন্য নামানোর বিষয়টি অনেক আমেরিকান ভোটারকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে অন্য একটি সম্ভাবনা হতে পারে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’Ñ যেখানে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত একটি বড় বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। এরপর ট্রাম্প তার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যদি পুরোপুরি খুলে দেওয়া না হয়, তবে এই বিজয় ঘোষণা অর্থহীন মনে হবে। অথচ ইরান এখন পর্যন্ত এটি খুলতে রাজি নয়। এদিকে ইউরোপীয় মিত্ররা এই জলপথ সুরক্ষিত রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প তার হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্প, যিনি বার বার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে আমেরিকাকে বিদেশের কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না, তিনি এখন নিজের ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প একদিকে বড় বড় জয়ের কথা বলছেন ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে তার আসল উদ্দেশ্য হলো অস্থির শেয়ারবাজারকে শান্ত করা। তাই তিনি তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা বার বার প্রচার করে যে এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনা না থাকায় এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়Ñ উভয়কেই বিপদে ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের সবচাইতে বড় ভুল হিসাব ছিল ইরানের পাল্টা হামলার ক্ষমতা নিয়ে। ইরান তাদের বাকি থাকা মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের একটি থিংক ট্যাংকের বিশেষজ্ঞ জন অল্টারম্যান বলেন, ‘ইরানি সরকারের বাজি হলো, তারা তাদের শত্রুদের চেয়ে বেশি সময় ধরে বেশি কষ্ট সইতে পারবে, আর তারা হয়তো ঠিকই বলছে।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের এমন আচরণের জন্য ট্রাম্পের দল ‘ভালোভাবেই প্রস্তুত’ ছিল এবং তারা আত্মবিশ্বাসী যে এটি খুব দ্রুতই খুলে যাবে।
তা সত্ত্বেও, যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের বাড়তে থাকা উদ্বেগের সবচাইতে বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে গত ২৩ মার্চ। ইরান যদি জাহাজ চলাচল করতে না দেয় তবে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি নাটকীয়ভাবে সরে এসেছেন।
বাজার শান্ত করার একটি কৌশল হিসেবে তিনি তার ওই হুমকি বাস্তবায়নে পাঁচ দিনের বিরতি ঘোষণা করেন যেন কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়া যায়। ২৬ মার্চ তিনি সেই সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন।
একই সময়ে নিজের দেশেও তার ওপর চাপ বাড়ছে। জনমত জরিপ বলছে, আমেরিকানরা এই যুদ্ধকে মোটেও পছন্দ করছে না। যদিও ট্রাম্পের ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকরা তার পাশেই আছে, কিন্তু যদি গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক প্রভাব চলতেই থাকে, তবে তার রাজনৈতিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
গত ২৩ মার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে ৩৬ শতাংশে নেমেছে, যা তার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর সর্বনিম্ন। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারাও আগামী নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন দেখে হোয়াইট হাউস এখন এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
রিপাবলিকানদের অসন্তোষের ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির চেয়ারম্যান মাইক রজার্স ২৬ মার্চ সরকারের সমালোচনা করেছেন যে, তারা ইরান অভিযানের পরিসর সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য দিচ্ছে না।
এর জবাবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের আগে ও চলাকালীন সময়ে বহুবার কংগ্রেসকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ফলে কূটনৈতিক পথ আরও জটিল
আপাতত কূটনৈতিক পথেও সহজ কোনো সমাধান নেই। ট্রাম্প যে ১৫ দফার পরিকল্পনা দিয়েছেন, সেটি যুদ্ধের আগে ইরান যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তার মতোই অনেকটা। এ ছাড়া এর অনেক শর্ত পালন করানো প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার মতো দাবি রয়েছে।
ইরান এই প্রস্তাবকে অন্যায় ও অবাস্তব বলেছে, যদিও তারা পরোক্ষ যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রেখেছে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন ইরানের শাসকরা মোটেও তাড়াহুড়ো করছেন না। কারণ তারা মনে করছেন শুধু টিকে থাকতে পারলেই তারা বিজয় দাবি করতে পারবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের অনেক নেতা নিহত হওয়ায় তাদের জায়গায় যারা এসেছেন তারা আরও বেশি কট্টরপন্থী, যা আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এই শাসকরা ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন না, কারণ গত এক বছরে যখন আলোচনা চলছিল তখনই ট্রাম্প দুবার বিমান হামলা চালিয়েছিলেন।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট শুনতে রাজি আছেন, কিন্তু তারা যদি বাস্তবতাকে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার মুখে পড়বে।’
এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন ট্রাম্প হয়তো এমন কোনো ছাড় দিয়ে দেবেন, যাতে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর তাদের হামলা চালানোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।
আবার উপসাগরীয় মিত্ররাও চায় না যুক্তরাষ্ট্র হুট করে যুদ্ধ ছেড়ে চলে যাক, কারণ সে ক্ষেত্রে তাদের এক আহত ও শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশীর (ইরান) সঙ্গে একাই লড়তে হবে।
পরস্পরবিরোধী সংকেত দিয়ে শত্রুকে বিভ্রান্ত রাখা
ট্রাম্প যদি সত্যিই স্থলবাহিনী পাঠান, তবে তিনি ইরানের খারগ দ্বীপের তেল কেন্দ্র বা অন্য কৌশলগত দ্বীপগুলো দখল করতে পারেন। এ ছাড়া বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে ইরানের মাটির নিচে লুকানো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভান্ডার কবজা করার জটিল চেষ্টাও করতে পারেন।
এই ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের মতো বড় রূপ দিতে পারে, যে ধরনের যুদ্ধে না জড়ানোর কথা ট্রাম্প বার বার বলেছিলেন। এতে আমেরিকান সৈন্য নিহতের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে।
উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে স্থল সৈন্য না পাঠানোর জন্য সতর্ক করেছেন। কারণ এতে ইরান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনায় বড় হামলা চালাতে পারে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার করেছেন যে এই মুহূর্তে তার স্থল সৈন্য পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই,’ তবে তিনি সব পথই খোলা রাখছেন।
আপাতত ট্রাম্প পুরো বিশ্বকে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখছেন। এক মুহূর্তে তিনি বাজার শান্ত করার মতো বার্তা দিচ্ছেন, আবার পরের মুহূর্তেই যুদ্ধের হুমকি দিয়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, ‘ট্রাম্প ইচ্ছা করেই একেক সময় একেক কথা বলছেন। তিনি একাই একটা ‘ধোঁয়াশা তৈরি করার যন্ত্র’, যাতে তার শত্রুরা তাকে বুঝে উঠতে না পারে ও অপ্রস্তুত থাকে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাসমান এয়ারবেস ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, যা ৮০টিরও বেশি বিমান বহন করতে পারেÑ মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় এটিকে মোতায়েন করা হবে বলে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেন, রণতরীটি এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শুরুতে মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং এখন তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে পারে। দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারÑ ইউএসএস ডোনাল্ড কুক এবং ইউএসএস ম্যাসন এই সপ্তাহে ইরানে চলমান মার্কিন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে। আরেকটি ডেস্ট্রয়ারÑ ইউএসএস রস, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যদিও এর গন্তব্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানাচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এক মাসে ইরানে অন্তত ২১৭ শিশুসহ এক হাজার ৪৬৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১২ হাজারেরও বেশি বোমা বর্ষণ করেছে এবং শুধু তেহরানের ওপরেই ফেলেছে ৩৬০০টি বোমা।