প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৮ পিএম
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশ নিতে ইচ্ছুক সকল অ্যাথলেটকে একবারের জন্য এসআরওয়াাই জিন পরীক্ষা দিতে হবে। ছবি: গেটি ইমেজ
নারী বিভাগের প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারী ও ডিএসডি (ডিফারেন্স ইন সেক্স ডেভেলাপমেন্ট) অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকসহ ভবিষ্যতের সব গেমসে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আইওসির নতুন যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করার পর বৃহস্পতিবার অলিম্পিকের নারী ইভেন্ট থেকে ট্রান্সজেন্ডার নারী ক্রীড়াবিদদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইওসি সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি বলেন, “অলিম্পিকে খুব সামান্য ব্যবধানেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। তাই বায়োলজিক্যাল পুরুষরা নারী বিভাগে অংশগ্রহণ করলে এটা অন্যায় হবে।”
তিনি জানান, নতুন এই নীতিমালা বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর লক্ষ্য নারীদের খেলাধুলায় ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশ নিতে ইচ্ছুক সকল অ্যাথলেটকে একবারের জন্য এসআরওয়াাই (সেক্স ডিটার্মিনিন রিজিওন ওয়াই) জিন পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাথলেটের জৈবিক লিঙ্গ নির্ধারণ করা হবে। সাধারণত গালের ভেতর থেকে সোয়াব বা লালার নমুনা নিয়ে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়, যা সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ।
আইওসি তাদের ১০ পৃষ্ঠার নীতিপত্রে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ট্রান্সজেন্ডার ও ডিএসডি অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিয়ে ক্রীড়াজগতে বিতর্ক চলছিল। যদিও ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে জন্মগতভাবে পুরুষ থেকে নারী হওয়া কোনো অ্যাথলেট অংশ নেননি। তবে ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডের ভারোত্তোলক লরেল হাববার্ড প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার দৌড়বিদ কাস্টার সেমেনিয়া এবং আলজেরিয়ার বক্সার ইমান খেলিফের মতো ডিএসডি অ্যাথলেটদের সাফল্যও এ বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের আগেই অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার এবং সাইক্লিংসহ কয়েকটি বড় ক্রীড়া সংস্থা পুরুষ বয়ঃসন্ধি পার করা ট্রান্সজেন্ডার নারীদের নারী বিভাগ থেকে বাদ দিয়েছিল। সেমেনিয়া, যিনি জন্মগতভাবে নারী হলেও তার শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টেস্টোস্টেরন রয়েছে, তিনি এই নিয়মের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলা করে রায় পান, যদিও সেই নিয়ম বাতিল হয়নি।
আইওসি বলছে, এই নিয়ম সেমেনিয়ার মতো ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
আইওসি’র প্রকাশিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, জৈবিক পুরুষদের শারীরিক সক্ষমতা সাধারণত নারীদের তুলনায় বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, দৌড় ও সাঁতারে পুরুষদের পারফরম্যান্স ১০-১২ শতাংশ বেশি, নিক্ষেপ ও লাফের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের বেশি এবং শক্তিনির্ভর খেলায় এই ব্যবধান আরও বেশি হতে পারে।
আইওসি আরও জানায়, এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি জীবনের পুরো সময় অপরিবর্তিত থাকে এবং এটি জৈবিক লিঙ্গ নির্ধারণে নির্ভুল সূচক হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে এই পরীক্ষাকে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই নীতিমালা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে। তবে এটি শুধুমাত্র এলিট পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সাধারণ বা বিনোদনমূলক খেলাধুলায় নয়।