প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪০ পিএম
ইরানের খার্গ দ্বীপ। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ‘ইরানের শত্রুরা একটি ইরানি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে।
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোনো চেষ্টা হলে সহযোগী ওই আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। যদিও তিনি দেশটির নাম উল্লেখ করেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে কালিবাফ বলেন, “ইরানি সেনারা প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা অঞ্চলভুক্ত ওই দেশটির জরুরি অবকাঠামোতে টানা ও নিরলস হামলা চালাবো।”
এমন হুঁশিয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে যাচ্ছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। তবে তেহরান এ দাবি অস্বীকার করে বলছে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
এদিকে হোয়াইট হাউস থেকেও নতুন করে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, “ইরানকে অবশ্যই পরাজয় মেনে নিতে হবে। ইরান যদি এখনকার বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তারা যদি এটা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং আরও হতেই থাকবে, তাদের ওপর আঘাত যেন আগের চেয়েও অনেক বেশি হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নিশ্চিত করবেন। … তিনি (ট্রাম্প) নারকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টিতে প্রস্তুত।”
খার্গ দ্বীপ ঘিরে উত্তেজনা
আল জাজিরা লিখেছে, একদিকে শান্তি আলোচনার কথা বলা হলেও অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধজাহাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভচর জাহাজে করে দুটি মেরিন ইউনিটও ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহামেদ ভাল জানিয়েছেন, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও যুদ্ধজাহাজের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে ইরানের লোকজন অবগত এবং ‘এরপর কী হতে যাচ্ছে তারা জানে’।
“আপাতত তারা বুঝতে পারছে যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার চেয়ে যুদ্ধ চলবে—এমন নিশ্চয়তাই বেশি। এবং তারা বলছে, তারা সামনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের যে খার্ক দ্বীপের দিকে নজর রয়েছে তা তারা জানে”, বলেছেন ভাল।
তিনি আরও বলেন, “ইরানের অনেকেই মনে করছেন, খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত জড়িত থাকতে পারে।
“গত কয়েকদিন ধরেই ইরানিরা বলছে, তারা জানতো এমনটাই ঘটবে। এবং এমন কিছু হলে তা যে ওই দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর জন্য খুবই ধ্বংসাত্মক কিছু হবে সে ব্যাপারেও তারা নিশ্চিত।
“খার্গ খুবই ছোট, উন্মুক্ত দ্বীপ যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে অবস্থিত। ইরানিরা হুমকি দিচ্ছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সেখানে নামে, যার জন্য ইরানিরা অপেক্ষা করছে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে” বলেও উল্লেখ করেন ওই প্রতিবেদক।
সম্ভাব্য অভিযান মোকাবিলায় ইরানের প্রস্তুতি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযান মোকাবিলায় খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ইরান।
ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক সামরিক সূত্র জানায়, “ইরানি দ্বীপ বা আমাদের ভূখণ্ডের অন্য কোথাও যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে ইরান লোহিত সাগরের মুখে নতুন রণাঙ্গন খুলে দিতে পারে।”
সূত্রটি আরও জানায়, ইয়েমেন ও দিজিবুতির মধ্যবর্তী বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ইরান ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ সৃষ্টি করতে সক্ষম। প্রয়োজনে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।