প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩১ পিএম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২৭ পিএম
পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেশটিকে খ্রিস্টানসহ অন্যান্য অমুসলিমদের জন্য অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ওপেন ডোরস -এর ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াচ লিস্ট’-এ পাকিস্তানের অবস্থান অষ্টম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিয়মিতভাবে বৈষম্য, সহিংসতা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, বন্ডেড লেবার এবং লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে ভয়েস অব পাকিস্তান মাইনোরিটি জানায়, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং আইনি বৈষম্য উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ‘ধর্ম অবমাননা’ অভিযোগ তুলে গণহিংসার ঘটনা বাড়ছে, যেখানে গির্জা ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন তাদের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে আবারও ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি পাঞ্জাব প্রদেশে ২১ বছর বয়সী এক খ্রিস্টান শ্রমিক মার্কাস মাসিহকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ২০২৫ সাল জুড়ে একাধিক ঘটনায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অপহরণ ও হত্যার খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের কঠোর ধর্ম অবমাননা আইন প্রায়ই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হচ্ছে বা জনতার রোষের শিকার হতে হচ্ছে।
এছাড়া হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কিশোরী মেয়েদের অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে সিন্ধ ও পাঞ্জাব অঞ্চলে।
পাকিস্তানের সংবিধানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৪ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে আহমদিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়, যা তাদের নাগরিক অধিকার সীমিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইন প্রণয়ন করা হলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। ফলে দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।