প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬ ২১:৪৮ পিএম
ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে “আসন্ন ঝুঁকি” মোকাবিলায় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স।
ফিলিপাইন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
মার্কোস জানান, জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, পরিবহন ও বিতরণ স্বাভাবিক রাখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, “এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিদ্যমান আইনের আওতায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারবে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বিঘ্ন এবং এর প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়”।
এক বছর কার্যকর থাকবে জরুরি অবস্থা
এই জরুরি অবস্থা এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে চুক্তির কিছু অর্থ আগাম পরিশোধের সুযোগ পাবে।
ফিলিপাইনের জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের ভিত্তিতে দেশটিতে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানির চেষ্টা চলছে, যদিও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে”।
এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ফিলিপাইন পেসোর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, প্রবাসী আয়ের অবস্থা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উৎপাদন খরচ তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এর আগে, সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে তদন্তকারী সিনেটররা তেলের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রশাসনের সমন্বয়ের অভাবের সমালোচনা করেন। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল করতে পারে।
এদিকে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের পরিকল্পনা করছে দেশটির পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো।