প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১১:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা ঐকমত্যের দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। এ ধরনের খবরকে ‘মিথ্যা কথা’ বলে উল্লেখ করে দেশটি বলেছে, এসব প্রচার কৌশলগত উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এমন মন্ত্যব্য করেন। পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি: আলোচনায় অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার উদ্যোগ প্রথমে ইরানের পক্ষ থেকেই আসে।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কাছেও একই দাবি করেন তিনি।
ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে ট্রাম্প বলেন, দুপক্ষের মধ্যে ‘জোরাল আলোচনা’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রধান প্রধান বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি। এমনকি প্রায় সব বিষয়েই ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।”
ট্রাম্পের মতে, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে আগ্রহী। তিনি জানান, শিগগিরই ফোনে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।
আলোচনায় কারা, কী বললেন ট্রাম্প
ট্রাম্প দাবি করেন, তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।
যদিও ইরানের নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করেননি, তিনি বলেন, একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ এই আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি এমনকি মোজতবার বর্তমান অবস্থা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন এবং তার মৃত্যু কামনা করেন না বলেও মন্তব্য করেন।
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিতে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প।
তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের এসব দাবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
তার ভাষায়, “আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, সেখান থেকে বের হতে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।”
দ্বিতীয় পোস্টে তিনি জানান, ইরান ‘আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ দাবি করে। এ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে থাকবেন।
গালিবাফের বক্তব্যের আগে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে বাগাই জানান, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে বার্তা এসেছে।
এর জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে কোনো হামলা হলে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।