× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনার দাবি, কমল তেলের দাম

সিএনএন

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৯ পিএম

তেল উত্তোলনের একটি যান্ত্রিক পাম্প বা পাম্পজ্যাক। ছবি: রয়টার্স

তেল উত্তোলনের একটি যান্ত্রিক পাম্প বা পাম্পজ্যাক। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতের পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। যদিও তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

বাজার পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম সোমবার ৭ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এর দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে দরপতন ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ‘ডব্লিউটিআই’-এর দাম ৬.৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯১.৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এই হ্রাসের পরেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।

ট্রাম্পের ঘোষণা ও ইরানের প্রত্যাখ্যান

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুদিনে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুতা নিরসনের বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে”। 

তিনি আরও জানান, আলোচনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার জন্য তিনি যুক্তরাষ্টের প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান বলছে, জ্বালানির দাম কমানো এবং সময়ক্ষেপণ করার জন্যই ট্রাম্প এমন দাবি করছেন।

হুমকি ও পাল্টা হুমকি

ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনকে নাটকীয় বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র দুদিন আগেই তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে ইরান ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে না দিলে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল তারা।

১৯৭০-এর দশকের চেয়েও ভয়াবহ সংকট

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সোমবার সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭০-এর দশকের তেলের সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানান, যুদ্ধের ফলে নয়টি দেশে অন্তত ৪৪টি জ্বালানি সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “১৯৭৩ এবং ১৯৭৯ সালের তেলের সংকটে বিশ্ব প্রতিদিন এক কোটি ব্যারেল তেল হারিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ। এছাড়া ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বড় প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে এখন”।

বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টা

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইইএ সদস্য দেশগুলো গত ১১ মার্চ তাদের জরুরি মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশগুলোর সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে আটকে থাকা ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যাতে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো যায়।

আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরল মনে করেন, “মজুদ থেকে তেল ছাড়া সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা