আলজাজিরা
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৫ পিএম
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩০ পিএম
প্রতিকী ছবি/ আলজাজিরা
কাতারের জলসীমায় সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে তিন তুর্কি নাগরিকসহ সাত আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাতার ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। কাতারের মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি একটি ‘রুটিন ডিউটি’ বা নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, একজন কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনীর সদস্য এবং বাকি দুইজন টেকনিশিয়ান ছিলেন।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—পাইলট ক্যাপ্টেন মুবারক সালেম দাওয়াই আল-মাররি, সার্জেন্ট ফাহাদ হাদি ঘানেম আল-খায়ারিন, কর্পোরাল মোহাম্মদ মাহের মোহাম্মদ এবং ক্যাপ্টেন সাইদ নাসের সামেখ (সবাই কাতার সশস্ত্র বাহিনীর); মেজর সিনান তাসতেকিন (কাতার-তুরস্ক যৌথ বাহিনী), এবং তুর্কি বেসামরিক সহযোগী সুলেমান জেমরা কাহরামান ও ইসমাইল আনাস ক্যান।
মন্ত্রণালয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তাদের ‘আন্তরিক সমবেদনা’ প্রকাশ করেছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় তাদের একজন সৈন্য এবং তুর্কি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘আসেলসান’ এর দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে কাতার কর্তৃপক্ষ তদন্ত কাজ চালিয়ে যাবে।
যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া দুর্ঘটনার অন্য কোনো কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এটি কোনো শত্রুতামূলক বা পরিকল্পিত হামলার ফল এমন কোনো ইঙ্গিতও মেলেনি।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’তে ইরানি হামলায় ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হয়েছিল।
কাতারএনার্জির সিইও এবং জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি ক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বার্ষিক আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই নজিরবিহীন হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং দুটি ‘গ্যাস-টু-লিকুইড’ (জিটিএল) স্থাপনার মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।