প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬ ১১:১৪ এএম
গাজা উপত্যকায় জাতিগত হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় জাতিগত হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানিয়েছে।
মিডল ইস্ট মনিটর একটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী অলাভজনক সংস্থা ও গণমাধ্যম, যা ২০০৯ সালে লন্ডন-এ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রধান কার্যালয়ও সেখানেই অবস্থিত।
২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এই মামলা দায়ের করলে শুরুতে জার্মানি ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও বার্লিন সরকার অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়।
তবে সাম্প্রতিক অবস্থান পরিবর্তনের ফলে জার্মানি এখন আর সরাসরি এই মামলায় ইসরায়েলের পক্ষে অংশ নিচ্ছে না।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দ্য হেগ-এ চলমান এ মামলায় জার্মানি ইসরায়েলের পক্ষে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত জার্মানির কূটনৈতিক অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে গণহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দক্ষিণ আফ্রিকা এই মামলা দায়ের করে।
সে সময় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই প্রথম ইসরায়েলের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে।
তবে বর্তমানে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে আইনি জটিলতা রয়েছে।
বিশেষ করে, নিকারাগুয়ার দায়ের করা পৃথক একটি মামলায় এখন আন্তর্জাতিক আদালতে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে হচ্ছে জার্মানিকে।
নিকারাগুয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসরায়েলকে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন এবং গণহত্যা-বিষয়ক সনদ লঙ্ঘন করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আইসিজেতে ইসরায়েলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে জার্মানির একটি কৌশলগত ও আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।