প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪০ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫২ পিএম
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ছবি: এপি
ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহু—সবাইকেই একের পর এক হুমকি এবং দেখে নিতে চাওয়া ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলি লারিজানি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল
কাৎজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই
দাবি করেছে।
তবে
এই খবরের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন
পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই খবরটি নিয়ে
আরও বিস্তারিত তথ্য আসার অপেক্ষায়
রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ইরানের
বেঁচে থাকা সর্বজ্যেষ্ঠ নেতাদের
একজন ছিলেন লারিজানি। তিনি যদিও ইরানের সর্বোচ্চ
নেতা হননি, আর এখনকার অন্তর্বর্তী
সরকারেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক
পদ ছিলেন না, তাও তার হাতে
যে পরিমাণ ক্ষমতা, তাতে তিনি এখন
খতম হওয়ার তালিকার এক নম্বরে ছিলেন।
ইরানের এই নিরাপত্তা প্রধান গত ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি একরকম হুমকিই দিয়ে বসেন। তিনি ট্রাম্পকে সাবধান করে বলেছেন, ট্রাম্প যেন নিজেই “খতম” না হয়ে যান সেদিকে খেয়াল রাখেন। তেহরান ট্রাম্পের কোনো “ফাঁপা হুমকিতে” একটুও ডরায় না।
লারিজানি
যদিও সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেননি,
কিন্তু খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি
ক্ষমতায় বসার পর লারিজানি
আবার ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার হর্তাকর্তা হয়ে ওঠেন।
মোজতবার
সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বোঝা
যায় যখন তিনি মোজতবার
নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে
ইসরায়েল আর আমেরিকার “কলিজা
শুকিয়ে গেছে”। লারিজানি
নতুন সর্বোচ্চ নেতার একদম কাছের লোক।
তার সঙ্গে এই বৃত্তে বিচার
বিভাগীয় প্রধান মোহসেনি-এজেই, স্পিকার গালিবাফ ও আইআরজিসির নতুন
প্রধান আহমেদ ওয়াহিদিও।
হরমুজ
প্রণালী নিয়েও লারিজানি কড়া কথা শুনিয়েছেন।
লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল হামলা
করতে থাকলে তেলের এই রাস্তা কখনোই
শান্ত হবে না। এর
জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, তেল আটকালে ইরানের
ওপর ২০ গুণ বেশি
কঠোর হামলা হবে।
লারিজানি
আগে থেকেই বলে আসছিলেন- খামেনিকে
হত্যার জন্য ট্রাম্পকে “চরম
মূল্য” দিতে হবে। তিনি
বলেন, “ওরা ইরানি জাতির
কলিজা পুড়িয়েছে, আমরাও ওদের কলিজা পুড়িয়ে
দেব। এটা শুধু মেরে
কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয় না, এর
বদলা হবে আরও ভয়াবহ।”
৬৭
বছর বয়সী লারিজানি বর্তমানে
‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর সেক্রেটারি। তাকে
ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর
অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।