প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:১২ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:১৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার এবং অন্যান্যদের জানাজা ১১ মার্চ তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় একটি স্ক্রিনে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি প্রদর্শিত হয়। ছবি: এএফপি
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা চললেও ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা আপাতত ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে নেই। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর মতে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এখনও মোটামুটি অটুট এবং দেশটির নেতৃত্ব জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম। সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পতনের আশঙ্কাও নেই।
একটি সূত্র জানায়, কয়েকদিনের মধ্যেই সর্বশেষ গোয়েন্দা বিশ্লেষণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তি শিগগির ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কঠোরপন্থী নেতৃত্ব যদি দৃঢ় অবস্থানে থাকে, তাহলে ওই সংঘাতের গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথমদিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন বলে জানা গেলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনও সুসংগঠিত বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও স্বীকার করা হয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকার ভেঙে পড়বেÑ এমন নিশ্চয়তা নেই।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) বা অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টিলেজেন্স কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব। এতে ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)-এর অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এবং অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব এখনও দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এদিকে শিয়া আলেমদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নিহত খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে একটি ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, তারা চায় না ইরানের বর্তমান সরকারের কোনো অংশ ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তবে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কীভাবে পুরো সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিবর্তন আনতে হলে স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে ইরানের সাধারণ মানুষ নিরাপদে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।
এদিকে ইরানের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। প্রতিবেশী ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা পশ্চিম ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরানি কুর্দিস্তানের কমালা পার্টি অব ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের নেতা আব্দুল্লাহ মোহতাদি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিলে হাজারো তরুণ অস্ত্র হাতে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ভয়ে কিছু নিরাপত্তা বাহিনী ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছেÑ এমন খবরও তারা পেয়েছেন।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর কাছে পর্যাপ্ত জনবল ও অস্ত্রশক্তি নেই, যার মাধ্যমে তারা দীর্ঘ সময় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারবে।
সম্প্রতি এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে ইরানে প্রবেশ করে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।