প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০০:১৫ এএম
পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামীকে চলতি বছরের শুরুতে ইসলামাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনা, বিশেষ করে বেলুচ জনগণের অধিকার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের ইস্যুতে তাঁর অবস্থানের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের সম্পর্ক রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও সমালোচকদের দাবি, এটি মূলত ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ।
দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচক হিসেবে পরিচিত মাজারি একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী। তাঁর গ্রেপ্তার, তাও আবার স্বামীসহ, অনেকের মতে একটি স্পষ্ট বার্তা—রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করলে আইনি কাঠামোর ভেতরে কাজ করলেও নিরাপদ থাকা যায় না।
মাজারি ধারাবাহিকভাবে বেলুচিস্তানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়টি সামনে এনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পরিসরে আলোচনা তৈরি করেছেন। তাঁর এই সক্রিয় ভূমিকা পাকিস্তানের সংবেদনশীল নিরাপত্তা ন্যারেটিভের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে পড়ে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, মানবাধিকার বা আইনি উদ্বেগ তুলে ধরাকে প্রায়ই সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই গ্রেপ্তারের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, পাকিস্তানে সমালোচকদের বিরুদ্ধে অস্পষ্ট ও বিস্তৃত আইনি ধারার ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। সংগঠনটি বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মানবাধিকার প্রয়োগ করার কারণে আটক সকল ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে কর্মী, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা আর বিচ্ছিন্ন নয়; বরং তা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এতে জনপরিসরে খোলামেলা বিতর্কের পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থাকেও অনেকেই চাপের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
পাকিস্তান নিজেকে একটি সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সেই দাবির সঙ্গে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মতপ্রকাশ বা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদেরই গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত পরীক্ষা হবে পাকিস্তানের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা, আইনজীবী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের—তারা এই পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
অনেকের মতে, মাজারি ও তাঁর স্বামীর গ্রেপ্তার একটি সতর্কবার্তা—যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু কর্মী বা সমালোচকদের নয়, বরং পাকিস্তানের সামগ্রিক নাগরিক স্বাধীনতার পরিসরকেই প্রভাবিত করতে পারে।