প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৫ পিএম
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি ২০১৯ সালের ৩১ মে তেহরানে আল-কুদস দিবস উপলক্ষে এক বিক্ষোভে যোগ দেন। ছবি: রয়টার্স
ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এসে তা উল্লাস করেছেন।
৫৬ বছর বয়েসি মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থেকে প্রভাব খাটানোর জন্য পরিচিত বলে অনেকে মনে করেন।
বার্তা সংস্থা এপির এক খবরে বলা হয়েছে, উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তার বার্তায় তাকে ‘আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়া’ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে, মোজতবা খামেনিকে ইরানের শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে ‘যোগ্য এবং দৃঢ়চেতা’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়।
তার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোতে হস্তক্ষেপ করা, বাসিজ মিলিশিয়াকে নির্দেশনা দেওয়া এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে।
তবে, ইরানে তার প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা থাকা সত্ত্বেও, তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির কোনও আনুষ্ঠানিক সরকারি পদে কখনও অধিষ্ঠিত হননি।
১৯৬৯ সালের আটই সেপ্টেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
মোজতবা খামেনির নাম নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণার পর ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস কর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাহরাইন ও কুয়েতে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এছাড়া সোমবার কাতারের দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে ভোরের দিকে তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই হামলাতেই আলী খামেনির মৃত্যু হয় বলে প্রথমে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানের কর্তৃপক্ষ।