প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১০:১৫ এএম
ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। ছবি: এপি
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কব্জা করতে সেখানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অক্সিওস। তবে ইরানে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্রমানের পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হলে সম্ভাব্য অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সেনাদের ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে হতে পারে। যুদ্ধের সময় এসব উপাদান অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এখনও স্পষ্ট নয়, সম্ভাব্য অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল নাকি দুই দেশ যৌথভাবে পরিচালনা করবে। সূত্রগুলোর মতে, ইরানের সামরিক বাহিনী আর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে নাÑ এমন নিশ্চয়তা পেলেই কেবল এ ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে।
মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে নিরাপদ করা হবে। জবাবে তিনি বলেন, ‘মানুষকে সেখানে গিয়ে সেটি সংগ্রহ করতে হবে।’ তবে কে সেই অভিযান পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু মিশনের জন্য ইরানে বিশেষ অভিযান ইউনিট পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসন দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে; একটি হলো ইউরেনিয়াম পুরোপুরি ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া, আরেকটি হলো সেখানে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সেখানেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ করা।
সম্ভাব্য অভিযানে বিশেষ বাহিনীর পাশাপাশি বিজ্ঞানীরাও থাকতে পারেন। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপিত সম্ভাব্য পদক্ষেপের তালিকায় এ ধরনের অভিযানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নির্দিষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্যে ইরানে সীমিত সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েনের ধারণা নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম প্রশ্ন হলো, ইউরেনিয়ামটি কোথায় রয়েছে? দ্বিতীয় প্রশ্নÑ আমরা কীভাবে সেখানে পৌঁছব এবং কীভাবে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব?’ এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষা দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিÑ এটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে নাকি সেখানেই কম সমৃদ্ধ করা হবে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা হবে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কারণেই’। তার ভাষায়, ‘যদি আমরা কখনও তা করি, তাহলে তারা এতটাই বিধ্বস্ত থাকবে যে, স্থলপর্যায়ে আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না।’