প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬ ২২:০৫ পিএম
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষানীতি ও শিক্ষা সংস্কার বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অধিবেশনে ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং লুক্সেমবার্গের নাগরিক জান হুবেল।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুবেল বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে তা হলো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর। তার মতে, এই নীতি শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির জন্য নয়, বরং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্যও প্রস্তুত করে এবং তাদের আত্মনির্ভর হতে উৎসাহিত করে।
গুয়াহাটির অক্ষর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করার সময় হুবেল দেখেন, কীভাবে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার সঙ্গে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ ও জনসংযোগের মতো বাস্তবধর্মী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে।
অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে হুবেল বলেন, সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের শিক্ষানীতি হংকং ও লুক্সেমবার্গের মতো দেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমে এই ধারণাগুলোর প্রয়োগ ভারতের শিক্ষামডেলকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছে।
অক্ষর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করার সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরির প্রকল্পেও অংশ নেন তিনি। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেন যে অনেক শিক্ষার্থীই আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারে বেশ স্বচ্ছন্দ, যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
হুবেলের মতে, স্কুল শিক্ষার সঙ্গে জীবিকা ও কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতাকে যুক্ত করা হলে যুব বেকারত্ব মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একাডেমিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের কর্মবাজারের সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ভারতের উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য দেশের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।
২০২৩ সালে হুবেল অক্সফোর্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে অক্ষর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করেন। সে সময় তিনি সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফাউন্ডেশনের ভারতীয় শিক্ষামডেল বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। পরে তিনি হংকংয়ে শিক্ষকতা করেন এবং রাজস্থানের বনস্থলী বিদ্যাপীঠে বক্তৃতাও দেন।