প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ১২:১৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ভবন। ছবি: রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পাস হয়নি। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে বুধবারে তোলা এই প্রস্তাবটি ৫৩–৪৭ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি পাস হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যেত।
যুদ্ধের ক্ষমতা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছে এবং যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন।
তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এই সংঘাত প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে—যা গত সপ্তাহান্তে ট্রাম্প যে সময়সীমা উল্লেখ করেছিলেন তার প্রায় দ্বিগুণ।
দলীয় অবস্থান ভেঙে দুই সিনেটরের ভোট
ভোটাভুটিতে দুইজন সিনেটর নিজ নিজ দলের অবস্থান ভেঙে ভোট দেন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল এর পক্ষে ভোট দেন।
মধ্যপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়ে বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের সেনা সদস্যদের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শও প্রয়োজন।”
এদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আগে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে অনন্ত যুদ্ধের ক্লান্তিতে থাকা আমেরিকান জনগণের পাশে দাঁড়াবেন, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পিট হেগসেথের পাশে দাঁড়াবেন—যারা দেশকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন?”
‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ নিয়ে বিতর্ক
প্রস্তাবটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রেপেজেন্টেটিভস-এ তোলা হবে। তবে সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া সামরিক অভিযান শুরু করার বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে তা জানানো বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই নিয়ম মেনেই কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। হামলা শুরুর আগেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয় এবং পরে ট্রাম্প একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করা। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ক্ষমতার প্রতিক্রিয়াতেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে জানাতে হয় এবং ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের পর পাস হওয়া সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন (এইউএমএফ) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চালানোর বৈধতা দেখিয়ে এসেছে। এই অনুমোদন বাতিলের একাধিক প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।