ইসরায়েলকে ইরানের হুঁশিয়ারি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ১১:০০ এএম
রানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয় ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর বন্ধ হবে না। ছবি: এএফপি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয় ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন আর বন্ধ হবে না। ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য এলাকা ছাড়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ইরানি সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইরান এ ঘটনাকে তাদের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
জোলফাঘারির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের দশম ধাপে ইরানের ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার একটি প্রধান কার্যালয়ে। পাশাপাশি হাইফার সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্র এবং পূর্ব জেরুজালেমের একাধিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি করা হয়। তিনি বলেন, দখলদার শত্রুদের ঘাঁটিতে হামলার পরিসর আরও বাড়ানো হবে এবং ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন কখনোই থামবে না।
তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাসকারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানান। সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা কেন্দ্র ও সরকারি ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানি বাহিনী চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে। এতে রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেন জোলফাঘারি।
এ ছাড়া কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল-সালেম ঘাঁটি অচল হয়ে পড়েছে এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়।
জোলফাঘারির দাবি, ইরানের পাল্টা হামলায় অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬০ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরবদেশ ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি, এ পর্যন্ত বিমান হামলায় অন্তত ৫৫৫ ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এরপরই ইরান ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।