× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অর্থনীতি-বিনাশী রূপ নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০০:২২ এএম

তেল আবিবের কাছে রামাত গানে প্রজেক্টাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত স্থানে গাড়ির ধ্বংসাবশেষের আগুন নেভাচ্ছেন ইসরায়েলি কর্মীরা। ছবি : এএফপি

তেল আবিবের কাছে রামাত গানে প্রজেক্টাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত স্থানে গাড়ির ধ্বংসাবশেষের আগুন নেভাচ্ছেন ইসরায়েলি কর্মীরা। ছবি : এএফপি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশটির শাসনক্ষমতা পরিবর্তন তথা রেজিম চেঞ্জের লক্ষ্যে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে নিহতও হন এই আক্রমণে। কিন্তু এখনও মূল লক্ষ্য অর্থাৎ রেজিম চেঞ্জের কাছাকাছিও যেতে পারেনি মিত্র দুই রাষ্ট্র। যদিও ক্রমশ বিস্তৃত এ যুদ্ধের চার দিনে জীবন হারাতে হয়েছে ইরানের প্রায় ৮০০ নাগরিককে। 

আক্রমণের শিকার ইরানের পাল্টা আঘাতে মারা গেছে কমপক্ষে ১০ ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত চার সেনা। সংঘাত যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এর সঙ্গে প্রতিদিনই বিপুল ব্যয়ের কারণে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরবমিত্রদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অকারণ এ সমর।

এবারের এ যুদ্ধ শুরুর আগেই খামেনিকে হত্যার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে ট্রাম্প প্রশাসন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ কাজে ক্রমশ উস্কানি দেওয়া হয় মিত্রদেশটিকে। এমন বাস্তবতায় সম্ভবত আগে থেকেই রণপরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিল ইরান, যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে খামেনি হত্যা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায়।

সর্বোচ্চ নেতা হত্যার প্রতিবাদে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে দেখা গেছে জনস্রোত। সম্মিলিত এ প্রতিবাদের আগেই প্রতিশোধের অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বিকেন্দ্রীভূত বাহিনীটির এ হামলায় সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ যুক্তরাষ্ট্র্রের মিত্রদের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। 

বিশ্লেষকদের বরাতে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এ যুদ্ধের চতুর্থ দিনে সৌদির রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা করে ইরান। এতে কারও প্রাণহানি না হলেও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সৌদিতে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে এসব দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’। তবে উল্টো বক্তব্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অনন্তকাল যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা আছে তার দেশের। যদিও সামরিক শক্তিতে বলীয়ান এই রাষ্ট্রপ্রধানের এমন দম্ভোক্তিতে হয়তো ভাটা পড়তে পারে অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব-নিকাশে চোখ পড়লে।

চড়েছে তেল ও গ্যাসের দাম

সংঘাতের বিস্তারে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭০ ডলার বেড়ে হয়েছে ৭৯ দশমিক ৪৪ ডলার। প্রণালীটি বন্ধ করে আইআরজিসির প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘এই পথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। আমেরিকানরা এই অঞ্চলে তেলের জন্য মুখিয়ে আছে।’

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের খরচ এখন আকাশচুম্বী। রেকর্ড ভাড়া গুনতে হচ্ছে সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল, সে সময়ের তুলনায় এ খরচ প্রায় দ্বিগুণ।

কাতারে ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের সর্ববৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন কোম্পানি কাতারএনার্জি তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এ আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এলএনজি পরিবহন সংশ্লিষ্ট সাত শতাধিক জাহাজ অলস বসে আছে। ইরানি হামলার পর এলএনজির দাম মঙ্গলবার ২০ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে কাতারএনার্জি এলএনজি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম এক লাফে বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ থেকে ১১৩ ডলার, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ১৮৫ ডলারে পৌঁছতে পারে।

বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বিপর্যয়

উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক ইরানি হামলায় বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। গত কয়েক দশকে আরবদেশগুলো এ খাতে যেমন আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা যেন মুহূর্তেই ভেঙে দিয়েছে তেহরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন সচল রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সৃষ্ট এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের মূলধন সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। 

প্রথম দিনেই ব্যয় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে প্রথম দিনেই ব্যয় হয় আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। তিন দিনে এ ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন শুধু ২০২৬ সালের জন্য সামরিক খাতে বরাদ্দ রেখেছে ১৫২ বিলিয়ন ডলার। 

গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্থাপনায় হামলা

যুদ্ধের চতুর্থ দিনে আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর প্রতিক্রিয়ায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস তাদের গ্রাহকদের অবিলম্বে ডেটা ব্যাকআপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, ইউরোপ বা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস প্লাটফর্মে স্থানান্তর করেছে। 

যুদ্ধের চতুর্থ দিনে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এএফপি সূত্র দাবি করছে, এর পরপরই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। এ সম্পর্কে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানায়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এটির একাংশ আঘাত হেনেছে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর পেতাহ তিকভায়। 

লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও সরাসরি উন্মুক্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ কোমাতি। এর পরিপ্রেক্ষিতে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার।

বড় হচ্ছে সামরিক সহায়তার অঙ্ক 

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির বিদায়ী বছরের ‘কস্ট অব ওয়ার’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেদিনই ফিলিস্তিনে আগ্রাসন ও গাজা অবরুদ্ধ করে ইসরায়েল। 

গাজায় যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েল ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায়। ১২ দিনের ওই যুদ্ধে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে দেশটি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে ইসরায়েল ঠিক কতটা ব্যয় করছেÑ এমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা