× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিশুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন ঘিরে পাকিস্তানে তীব্র বিতর্ক

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০০:১৪ এএম

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬ ০০:৫১ এএম

শিশুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন ঘিরে পাকিস্তানে তীব্র বিতর্ক

পাকিস্তানে সম্প্রতি পাস হওয়া চাইল্ড ম্যারেজ রেস্ট্রেইন্ট বিল-২০২৫  ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ১৮ বছরের নিচে বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতারা আইনটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে আইনটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জামিয়াত উলামা-ই-ইসলাম (ফজল) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান সম্প্রতি পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “শরিয়ত অনুযায়ী বয়ঃসন্ধিই বিয়ের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করবে, বয়স নয়।” তিনি ১০, ১১ বা ১২ বছর বয়সী শিশুদের বিয়েতে সহায়তা করার কথাও উল্লেখ করেন। তার এ বক্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে।

দলটির আরেক নেতা হাফিজ হামদুল্লাহও আইনটির বিরোধিতা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাদের দাবি, নতুন আইন ইসলামি বিধানের পরিপন্থী এবং এটি পারিবারিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। তবে ২০২১ সালে ফেডারেল শরীয়া আদালত রায় দিয়েছিল যে, বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ ইসলামবিরোধী নয়। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দল আইনটির সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে।

শিশু সুরক্ষায় আইন কতটা কার্যকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পাকিস্তানে শিশুবিবাহ একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা, বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ২১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যায়। অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি, শিক্ষাছুট এবং আজীবন আর্থসামাজিক বঞ্চনার শিকার হয় অসংখ্য কিশোরী।

সংখ্যালঘু কিশোরীদের ঝুঁকি আরও বেশি

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, প্রতিবছর প্রায় এক হাজার খ্রিস্টান ও হিন্দু কিশোরী অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিয়ের শিকার হয়। আলোচিত কয়েকটি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী আরজু রাজা, ১৪ বছর বয়সী হুমা ইউনুস এবং মাইরা শেহবাজের ঘটনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের রিঙ্কল কুমারী, লতা কুমারী এবং বোন রিনা ও রাভিনা—এদের ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আদালত নাবালিকাদের তাদের অপহরণকারীদের কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করেছে এবং বয়স প্রমাণে জাল নথি গ্রহণের ঘটনাও ঘটেছে।

আইন বনাম সামাজিক বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এর বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের প্রকাশ্য বিরোধিতা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই ১৮ বছরের নিচে। ফলে শিশু সুরক্ষার প্রশ্নটি জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

তাদের মতে, প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য কেবল আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ধর্মীয় নেতাদের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশু সুরক্ষার এই আইন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা থেকে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা