প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৩ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬ ০০:৪৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। মেরে ফেলা হয়েছে ইরানের শীর্ষস্থানীয় ৪০ ব্যক্তিকে। তেহরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর ঘোষণা এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের দুই শক্তিশালী মিত্র চীন ও রাশিয়া কি সরাসরি সামরিকভাবে এগিয়ে আসবে? বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে।
ভূগোল ও সামরিক লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা
চীন ও রাশিয়া—উভয় দেশই ইরান থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক ঘাঁটি, নৌবহর ও আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো থাকলেও মস্কো বা বেইজিংয়ের তেমন কোনো অবকাঠামো নেই। পারস্য উপসাগরে টেকসই সামরিক শক্তি প্রক্ষেপণ করতে হলে নিরাপদ আকাশ ও সমুদ্রপথ দরকার, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সরাসরি সেনা বা বৃহৎ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো কার্যত অসম্ভব।
সামরিক বাস্তবতা: প্রতীকী সমর্থন, সরাসরি হস্তক্ষেপ নয়
চীন ইতোমধ্যে ইরানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব সরঞ্জাম সরাসরি চীনা বাহিনীর মোতায়েনের সমতুল্য নয়। অন্যদিকে, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যস্ত। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরেকটি ফ্রন্ট খোলার মতো সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা মস্কোর নেই বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাজনৈতিক ঝুঁকি ও বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কা
চীন ও রাশিয়া উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক। এমন সংঘাত বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যার ফলাফল অনিশ্চিত ও বিপর্যয়কর। তাই তাদের অবস্থান কৌশলগতভাবে ‘অস্পষ্ট’—ওয়াশিংটনের নীতির বিরোধিতা করা, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানো।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা
চীনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পারস্য উপসাগরে বড় ধরনের যুদ্ধ বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রাশিয়া ইতোমধ্যেই কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে। ইরানের পক্ষে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
একা ইরান?
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের অভিমত—চীন ও রাশিয়ার সমর্থন মূলত কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক। তারা অস্ত্র সরবরাহ, কূটনৈতিক সমর্থন এবং রাজনৈতিক বিবৃতি দিতে পারে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলার মুখে নিজেদের সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী মিত্র থাকলেও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানকে একাই লড়তে হতে পারে।