প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৪ এএম
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র। ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাল্টা আঘাতের এই সক্ষমতা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তেহরানের হাতে ঠিক কী ধরনের অস্ত্রভান্ডার রয়েছে এবং তা কতটা কার্যকর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে আসছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ-সামরিক সক্ষমতার নানা দিক।
সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারগুলোর একটি রয়েছে ইরানের হাতে। প্রযুক্তির দিক থেকে কিছু ব্যবস্থা পুরনো হলেও দেশটির ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং সেগুলোর অনেকই দূরপাল্লায় আঘাত হানতে সক্ষম।
স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার মূলভিত্তি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জুলফাগর, কিয়াম-১ এবং শাহাব-১ ও শাহাব-২। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল তেহরান, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের কৌশলগত শক্তির মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে রয়েছে শাহাব-৩, ইমাদ, গাদর-১, খোররামশাহর এবং সেজ্জিল।
এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলসহ কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সলিড ফুয়েলচালিত ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় তা পাল্টা হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন কৌশল
ইরানের অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে দূরপাল্লার একাধিক ক্রুজ মিসাইল, যেমন সুমার, ইয়া আলী, কুদস, পাভেহ ও রাদ। প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এর পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ চালানো ইরানের পরিচিত কৌশল। একযোগে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রেখে পরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
হাইপারসনিক ও নৌ-সামরিক সক্ষমতা
ইরান দাবি করেছে, তাদের হাতে ফাত্তাহ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম। পাশাপাশি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ-মাইন ও সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতাও রয়েছে তেহরানের।
ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’
বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার নির্মাণ করে ইরান যে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছে, তা ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো বহিরাগত বিমান হামলা থেকে তুলনামূলক সুরক্ষিত। ফলে বড় ধরনের হামলার মধ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে পারে তেহরান।
সার্বিকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনভিত্তিক সামরিক কৌশল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।