প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ১১:৪২ এএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:১৯ পিএম
ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের আরেক শীর্ষ নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন বলছে, ইরানে শুরুর দিকে বিমান হামলায় কট্টর ইসরায়েল বিরোধী মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মা’আরিভের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, ইরানে গৃহবন্দী ছিলেন দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির পক্ষে থাকা মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
অবশ্য ইরানি কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা বলছে ভিন্ন কথা
তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু বলছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব ও পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্যে এখনও বেঁচে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ। ইরানের অন্যতম শীর্ষ ওই নেতার এক ঘনিষ্ট উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি, সবকিছু ঠিক আছে।’
ওই উপদেষ্টা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে আরও বলেন, “গতকাল তার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ভবনে হামলা হয়েছিল, সেখানে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইআরজিসির তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
“তবে তার বাসভবন পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে। বাড়ির একশ মিটারের মধ্যে কোনো হামলা হয়নি।”
আহমেদিনেজাদের রাজনৈতিক প্রভাব
মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইরানের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তেহেরানের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে অনেকটা আশ্চার্যজনকভাবে তখনকার প্রভাবশালী নেতা আকবর হাশেমি রাফসানজানিকে হারিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
কট্টর ইসরায়েল-আমেরিকা বিরোধী মনোভাব, নিজ দেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরমাণু অস্ত্র মজুদের পক্ষে অবস্থানের জন্য পরিচিত তিনি।
শুধু তাই নয়, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে আরব বিশ্বের তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। নেতৃত্বের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষেও বেশ সোচ্চার ছিলেন এই ইরানি নেতা।
এর আগে শনিবার ভোরে তেহেরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং পারমানবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র।
হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সামরিক বাহিনী ও মন্ত্রীপরিষদের একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন।
জবাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা শুরু করে দেশটি। পাশাপাশি হামলা চালানো হয় ইসরায়েলেও।