নিউইয়র্ক টাইমস
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩০ পিএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩২ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি রয়টার্স
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় হয়েছিল বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
অভিযানের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে রবিবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায়। কয়েক মাস ধরে সংস্থাটি খামেনির অবস্থান ও চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সময়ের সঙ্গে তার দৈনন্দিন অভ্যাস ও অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের তথ্য বদলে দেয় হামলার সময়
সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন। এই তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন গোয়েন্দা তথ্যকে কাজে লাগাতে দ্রুত কৌশল পুনর্গঠন করা হয়। প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও বৈঠকের সময়সূচি জানার পর সকালে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকটি যে কমপ্লেক্সে হওয়ার কথা ছিল, সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত। ইসরায়েলের ধারণা ছিল, সেখানে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
সমন্বিত হামলা ও ‘কৌশলগত চমক’
ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘপাল্লার ও উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্তায় বলেন, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে, যার একটি ছিল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের জড়ো হওয়া কমপ্লেক্স।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরনা জানিয়েছে, ওই হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন—যদিও এর আগে ইসরায়েল তাদের হত্যার দাবি করেছিল।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।