পাক-আফগান উত্তেজনা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ এএম
পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা। এআই ছবি
২৭ ফেব্রুয়ারি রাতভর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ বর্তমানে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’ রয়েছে।
চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) তথ্য অনুযায়ী দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো।
শক্তিশালী ও ধারাবাহিক নিয়োগের ফলে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষ বাহিনী তৈরিতে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। এ ছাড়া দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার চীন থেকে প্রাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইসলামাবাদ তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে এবং একই সঙ্গে নৌ ও বিমানবাহিনী আধুনিকায়ন করছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান যে বিদেশি সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, সেগুলো ব্যবহারের সক্ষমতা ক্রমেই কমছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবও তাদের সামরিক আধুনিকায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।
সামরিক সদস্য সংখ্যা
পাকিস্তানের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সেনা রয়েছে।
অন্যদিকে আফগান তালেবানের সক্রিয় সামরিক সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার। তবে তারা বাহিনী বাড়িয়ে ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি
পাকিস্তানের রয়েছে ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০টির বেশি আর্টিলারি ইউনিট।
আফগান বাহিনীর কাছেও সোভিয়েত আমলের প্রধান যুদ্ধট্যাংক, সাঁজোয়া কর্মী পরিবহন যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। তবে তাদের মোট সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। আর্টিলারির ক্ষেত্রেও সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশিত নয়।
আকাশ শক্তি
পাকিস্তানের কাছে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে, যার মধ্যে বহুমুখী, আক্রমণ ও পরিবহন হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের কার্যত কোনো পূর্ণাঙ্গ বিমানবাহিনী নেই। তাদের অন্তত ৬টি পুরনো বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার থাকার তথ্য রয়েছে, তবে কতগুলো সচল অবস্থায় আছে তা নিশ্চিত নয়।
পারমাণবিক অস্ত্র
পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ এবং তাদের প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই।
সামরিক সক্ষমতা, জনবল, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক শক্তির দিক থেকে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে আফগান তালেবানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে সীমান্ত সংঘর্ষে স্থানীয় কৌশল, ভৌগোলিক অবস্থান ও গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।