বিবিসি বাংলা
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৫ পিএম
রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। ছবি: এক্স থেকে
আফগান তালেবানদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত, ২৭ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।
তিনি দাবি করেন, এ সংঘাতে ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আফগান তালেবানরা পাকিস্তানের ১৫টি সেক্টরের ৫৩টি স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং এসব হামলা বিশ্বব্যাপী ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।
আহমেদ শরীফ আরও দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৭৩টি আফগান সামরিক পোস্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি পোস্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ১১৫টি ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ জানান, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী টিটিপির বিরুদ্ধে ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে’ আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তার দাবি, ওই ২২টি অভিযানে কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিকায় পরিচালিত অভিযানে কাবুলের পদাতিক ব্রিগেড সদর দপ্তরসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বেসামরিক নেতৃত্বের নির্দেশ অনুসারে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে সেনাবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আফগান সরকারকে পাকিস্তান ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। শুক্রবার বিকেলে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চালানো কোনো ধরনের অপকর্ম সহ্য না করতে সেনাবাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, “আফগান তালেবান শাসন কিংবা ফিতনা আল-খারিজ (টিটিপির আনুষ্ঠানিক নাম) এর কার্যক্রম অগ্রহণযোগ্য”।
শেহবাজ শরীফ আরও বলেন, “ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিভাবে জবাব দিতে হয়, পাকিস্তান তা জানে”।
সীমান্তবর্তী এলাকায় তালেবান আক্রমণ প্রতিহত ও জোরালো পাল্টা আক্রমণ পরিচালনার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসাও করেন তিনি।