প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৩ পিএম
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৫ পিএম
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচোর মৃত্যুতে তার অনুসারীরা প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাণ্ডব শুরু করেছে।
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট এল মেনচোর মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। তার অনুসারীরা প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেছে।
মেক্সিকোর ভয়ঙ্কর জালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) মাদক চক্রের এই নেতা রবিবার জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাবাহিনীর এক অভিযানে নিহত হন।
গরিব কৃষক পরিবারের সন্তান নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেসই বিশ্বজুড়ে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত। ১৯৬৬ সালে মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান।
সেখানে কিশোর বয়সেই মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দুবার গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে মেক্সিকোতে ফিরে কিছুদিন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেন।
দারিদ্র্য থেকে অপরাধ সাম্রাজ্যে উত্থান
১৯৯৬ সালে কুখ্যাত গ্যাংস্টার আরমেন্দো ভেলেন্সিয়ার ভাতিজিকে বিয়ে করার পর তার অপরাধজগতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
পারিবারিক সূত্রে সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা তার অপরাধজগতের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)। অল্প সময়েই সংগঠনটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মাদক চক্রে পরিণত হয়।
সিজেএনজি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মাদক পাচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। একসময় সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন এল মেনচো।
রক্তক্ষয়ী অভিযান ও পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক ফেন্টানিল পাচারের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক পাচারেও ছিল তার সরাসরি সম্পৃক্ততা।
নিজস্ব সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন এল মেনচো। তার নির্দেশে ২০১৫ সালে দেড় মাসের ব্যবধানে দুই ডজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, তার মাদক নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিভিন্ন সময় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ। অবশেষে রোববার মার্কিন গোয়েন্দাদের সহায়তায় যৌথ অভিযানে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে। অভিযানে তার গ্যাংয়ের সাত সদস্যও নিহত হয়।
তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কার্টেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপনেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন করে রক্তক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।