প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৩ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৩ পিএম
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি সংবাদের শিরোনাম হয়েছে বিশ্বজুড়ে। স্বাভাবিক কারণেই রণতরিটি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চলছে আলোচনা। এমন বাস্তবতায় এ রণতরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য।
৫ হাজার সেনা
আধুনিক যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত এ রণতরিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও কূটনৈতিক চাপ—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পারমাণবিক শক্তিচালিত নৌবহরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু আব্রাহাম লিংকন প্রায় পাঁচ হাজার সেনা ও সহায়ক কর্মী নিয়ে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম।
গাইডেড মিসাইল
রণতরিটির সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যা এটির নিরাপত্তা ও আক্রমণাত্মক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট এবং ইএ-১৮জি গ্রোলারসহ রণতরিতে রয়েছে শতাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার।
যে কাজে ব্যবহার করা হয়
বিমানগুলো আকাশ নিয়ন্ত্রণ, স্থলের লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় সক্ষম। ফলে সমুদ্র ও আকাশ—দুই ক্ষেত্রেই উচ্চ সক্ষমতা রয়েছে।
ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন জুনিয়র ও ইউএসএস মিসেল মারফি নামের ডেস্ট্রয়ারগুলোও বহরে রয়েছে। রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও আধুনিক সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো রণতরিকে সুরক্ষা দেয়।
যুদ্ধজাহাজটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত। যা দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
নৌবহরের সঙ্গে মোতায়েন রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও থাড—যা আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রয়োজনে দ্রুত ও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ‘শক্তি প্রদর্শনে’র মাধ্যমে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপে রাখতেই রণতরি মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন।
নৌবহরের সঙ্গে উন্নত নজরদারি ও রাডার ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে—যে প্রযুক্তি আকাশ ও সাগরপথের সম্ভাব্য হুমকি শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সম্ভাব্য সংঘর্ষে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে বিমান ও যুদ্ধজাহাজ মিলিয়ে বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে বহরটিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক কৌশলেরও অংশ। যা আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্ত অবস্থানে রাখতে এই উপস্থিতি কাজে লাগতে পারে। সব মিলিয়ে আব্রাহাম লিংকন নৌবহর সামরিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার।