প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি: টরন্টো সানের রাজনৈতিক কলামিস্ট ব্রায়ান লিলির ভেরিফায়েড পেইজ থেকে নেওয়া।
কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো ধরণের বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে দেশটির সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ শনিবার ট্রাম্পের দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন,'কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কানাডার সব পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।'
পোস্টে ঠিক কোন চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন তা অস্পষ্ট । তবে গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের সঙ্গে একটি 'কৌশলগত অংশীদারিত্ব' ঘোষণা করেন এবং শুল্ক কমানোর বিষয়ে সম্মত হন।
শুরুতে কার্নির ওই পদক্ষেপকে 'ভালো বিষয়' বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের দাভোসে কার্নির একটি ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।
ওই ভাষণে কার্নি মন্তব্য করেছিলেন যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থায় ফাটল ধরেছে।
কার্নি তার বক্তব্যে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই 'বৃহৎ শক্তিগুলোর' অর্থনৈতিক জবরদস্তির মোকাবিলায় বিশ্বের 'মাঝারি শক্তিগুলোকে' এক হওয়ার আহ্বান জানান।
এর জবাবে ঠিক পরদিন ট্রাম্প এক ভাষণে বলেন, 'কানাডা টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই'। একই সঙ্গে তিনি কানাডাকে তার নতুন 'বোর্ড অব পিস'-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও প্রত্যাহার করে নেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও বলেন,‘কার্নি যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য 'ড্রপ অফ পোর্ট' (পণ্য খালাসের স্থান) হিসেবে ব্যবহার করবেন, তবে তিনি বড় ভুল করছেন।’
ট্রাম্পের এমন হুমকির পর কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে না। যা অর্জিত হয়েছে, তা হলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।'
লেব্লাঙ্ক জানান, সরকার কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব জোরদার করতে মনোযোগী। ট্রাম্পের বারবার শুল্ক আরোপের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্যের বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে দেশটির সরকার।
গত সপ্তাহে কার্নি এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে চীন কানাডিয়ান ক্যানোলা তেলের ওপর শুল্ক ৮৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর বিনিময়ে কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে 'মোস্ট ফেভারড নেশন' বা সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের হারে ৬.১ শতাংশ নির্ধারণ করবে।