প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২১ পিএম
নিউ ইয়র্কের লোভিলে তীব্র বাতাসের সাথে ব্যাপক তুষারপাত হয়। ছবি: এপি
চলতি মৌসুমের সবচেয়ে ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কোথাও কোথাও তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, এছাড়া, ১ লাখেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়টি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর, ঘনবসতিপূর্ণ মধ্য-আটলান্টিক এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে আঘাত হানতে পারে। এতে ১৮ কোটি মানুষ (যা মার্কিন জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি) হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস)। খবর আল-জাজিরার
সংস্থাটি শনিবার রাতে জানিয়েছে, দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথে ব্যাপক তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি এবং হিমশীতল বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ (যা মার্কিন জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি) হুমকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঝড়টিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং শনিবার দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, টেনেসি, জর্জিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, মেরিল্যান্ড, আরকানসাস, কেনটাকি, লুইসিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়া রাজ্যে জরুরি দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা এই ঝড়ের পথে থাকা সমস্ত রাজ্যের ওপর নজরদারি চালিয়ে যাব এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রাখব। নিরাপদে থাকুন এবং উষ্ণ থাকুন।”
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বরফে ঢাকা এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হারিকেনের সমান হতে পারে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার জানিয়েছে, শনিবারের জন্য নির্ধারিত ৪ হাজার এবং রবিবারের জন্য নির্ধারিত ৯ হাজারেরও বেশি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
বিমান বিশ্লেষণ সংস্থা সিরিয়ামের মতে, রবিবারের বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ছে। কোভিড মহামারির পর থেকে যে কোনও একদিনে এটিই সবচেয়ে বেশি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সংখ্যাও বাড়ছে
পাওয়ারআউটেজ ডট কম- এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, যার বেশিরভাগই টেক্সাস এবং লুইসিয়ানার।
টেক্সাসের ডালাস শহরে জানুয়ারিতে সাধারণত হালকা তাপমাত্রা থাকে, সেখানে পারদ ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (২১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) নেমে গেছে।
এনডব্লিউএস জানিয়েছে, ওকলাহোমা এবং আরকানসাসেও তুষারপাত হয়েছে, যেখানে কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই মাটিতে তুষারের উচ্চতা ১৫ সেমি (৬ ইঞ্চি) রেকর্ড করা হয়েছে।
মেরিল্যান্ডের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব আশেরম্যান রয়টার্সকে বলেছেন, তীব্রতা এবং ব্যাপ্তির দিক থেকে এটি এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঝড়।
উত্তর ও দক্ষিণ ডাকোটা এবং মিনেসোটার মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তাপমাত্রা -৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর নিচে নেমে গেছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক পোশাক ছাড়া এই ধরনের ঠান্ডার সংস্পর্শে এলে ‘খুব দ্রুত হাইপোথার্মিয়া হতে পারে’।
আশেরম্যান বলেন, দক্ষিণ লুইসিয়ানা, মিসিসিপি এবং টেনেসির কিছু অংশের জন্য সবচেয়ে খারাপ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে এক ইঞ্চি (২.৫ সেমি) পুরু বরফে গাছের ডালপালা, বিদ্যুৎ লাইন এবং রাস্তাঘাটে ঢেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানার পর, ঝড়টি ঘনবসতিপূর্ণ মধ্য-আটলান্টিক এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতে ৩০ সেন্টিমিটার (১ ফুট) বেশি তুষারপাত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এনডব্লিউএস।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার বলেছেন, “দয়া করে গাড়ি চালাবেন না, ভ্রমণ করবেন না, এমন কিছু করবেন না যা আপনাকে বা আপনার প্রিয়জনদের বিপদে ফেলতে পারে।”
তিনি বলেন, “আমি প্রতিটি নিউ ইয়র্কবাসীকে অনুরোধ করছি, যারা পারেন তারা যেন একটি উষ্ণ সোয়েটার পরেন, টিভি চালু করেন, দশম বারের জন্য মিশন ইম্পসিবল দেখুন, সর্বোপরি, ঘরে থাকুন।”
নিউ জার্সিতে গভর্নর মিকি শেরিল বাণিজ্যিক যানবাহন ভ্রমণের উপর বিধিনিষেধ এবং মহাসড়কে ৫৬ কিমি/ঘন্টা (৩৫ মাইল) গতিসীমা ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ঝড়ের আশঙ্কা করছি যা আমরা বছরের পর বছর দেখিনি। ঘরে থাকার জন্য এটি একটি ভালো সপ্তাহান্ত।”