প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ এএম
ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে নিয়ে কলেজ ফুটবলের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ উপভোগ করেন। ছবি: এএফপি
ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে ‘চরম বোকামি’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পোস্টে ট্রাম্প ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা করে লেখেন, যুক্তরাজ্য দিয়েগো
গার্সিয়া দ্বীপ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি
গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তার ভাষায়, ‘কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই তারা এই
সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম দুর্বলতা’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প সতর্ক করেন,
চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলো কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে এবং তারা এ ধরনের দুর্বলতার
সুযোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত
করে বলেন, ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে কেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে
ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনা প্রয়োজন। তিনি ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের
এ বিষয়ে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা
হচ্ছে। কারণ এর মাত্র এক দিন আগেই কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পের
সঙ্গে তার ‘শান্ত ও গভীর সম্পর্কের’ কথা তুলে ধরেছিলেন। অথচ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্প
প্রকাশ্য সমালোচনায় সেই সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে ফেললেন।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৫ সালের মে মাসে স্টারমার যখন চাগোস
দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেন, তখন ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘যুগান্তকারী অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
এমনকি ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিস সফরের সময় ট্রাম্প নিজেও এই ৯৯ বছরের লিজ চুক্তির প্রতি
সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। বর্তমান অবস্থান
পরিবর্তন স্টারমারের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ও দিয়েগো গার্সিয়া চুক্তি
গত বছরের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব
মরিশাসের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে এর বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ আগামী ৯৯
বছরের জন্য ব্রিটেনের কাছেই থাকবে, যা প্রয়োজনে আরও ৪০ বছর বাড়ানো যাবে। বিনিময়ে যুক্তরাজ্য
মরিশাসকে বছরে ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে মরিশাস ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকাকালে ব্রিটেন ৩ মিলিয়ন
পাউন্ডের বিনিময়ে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ আলাদা করে নেয়। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে সামরিক ঘাঁটি
স্থাপনের জন্য হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়। মরিশাস দীর্ঘদিন ধরে
আন্তর্জাতিক আদালতে এই দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
এদিকে ব্রিটিশ ডানপন্থী নেতা ও রিফর্ম ইউকে দলের প্রধান নাইজেল ফারাজ
ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে
কার্যত ‘ভেটো’ দিয়েছেন ট্রাম্প।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু চাগোস ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ
নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং সামগ্রিক যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র
সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন-স্টারমার যে ‘বিশেষ সম্পর্কের’
কথা বলে আসছেন, বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।